প্রধানমন্ত্রীকে নাসীরুদ্দীনের লাল কার্ড, বিএনপি-জামায়াতকে সারজিসের ধন্যবাদ

কুড়িগ্রামে দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী— সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল কার্ড দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। অন্যদিকে পৃথক ঘটনায় বিএনপি সরকার ও জামায়াতে ইসলামীকে ধন্যবাদ দিয়েছেন এনসিপির আরেক নেতা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
আজ বুধবার বিকালে কুড়িগ্রাম শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির আলোচনা সভায় তারা পৃথকভাবে এমন মন্তব্য করেন।
বিএনপি সরকার ও তারেক রহমানের সমালোচনা করে পাটোয়ারী বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিএনপির জন্য চালু করেছে কৃষি কার্ড, ধর্ম কার্ড, প্রবাসী কার্ড। আমার খেটে খাওয়া মানুষের পকেটের টাকা কেটে নিয়ে। আমরাও বলেছি আমরা কয়েকটি কার্ড তৈরি করব। এক নম্বর হলো সন্ত্রসী কার্ড; এটা বিএনপিকে দেওয়া হবে। দুই নম্বর হলো চাঁদাবাজি কার্ড; এটা ছাত্রদলকে দেওয়া হবে। তিন নম্বর হলো দখলবাজি কার্ড; এটা যুবদলকে দেওয়া হবে। আরেকটা সম্মিলিত কার্ড হবে। যেটার নাম হলো লাল কার্ড। এই লাল কার্ড প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচন পূর্ব প্রতিশ্রুতি এবং তা বাস্তবায়ন না করার সমালোচনা করে তিনি বললেন, ‘নির্বাচনের আগে বলেছি ভোট দাও, আমরা সংস্কার বাস্তবায়ন করব। নির্বাচনের পরে গদি মোটা হয়ে গেছে, এখন আর জনগণকে গোনার টাইম নাই। যাদের শেখ হাসিনা গুনে নাই, শেখ হাসিনার গদিতে সেই জনগণ আগুন লাগায় দিয়েছিল। শেখ হাসিনার আসন আরও বেশি ছিল।’
‘আপনার মা-বাবার পথ থেকে সরে বাংলাদেশ বিরোধী শক্তি ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভোট ব্যাংকের আঁতাত করেছেন! আপনার জন্য আমাদেরও কিছু বলার নাই’— প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে যোগ করেন পাটোয়ারী।
সারজিস বলেছেন, ‘দুইটা ধন্যবাদ দিতে চাই। একটা বিএনপিকে আরেকটা জামায়াতকে। গতকাল আমরা সংবাদে দেখলাম, এতদিন যারা বাংলাদেশ থেকে হজ করতে যেতেন তাদের কাছ থেকে এক প্রকার চাঁদাবাজি করা হতো। এই চাঁদাবাজিটা সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান করতো। ভারত-পাকিস্তান থেকে ২-৩ লাখ টাকায় হজ করতে যান হাজিরা। আর বাংলাদেশ থেকে হাজিদের যেতে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা লাগতো। গতকাল আমরা দেখলাম যে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। যদিও এটা অনেক কম তারপরও আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যে হাজিদের দিকে তাদের দৃষ্টিটা পড়েছে।’
‘এবার জামায়াতকে একটা ধন্যবাদ দিতে চাই। গতকাল থেকে স্যোসাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে জামায়াতের সাতক্ষীরার এমপির (গাজী নজরুল) নৈতিক স্খলনের ঘটনা। আজকে জামায়াত একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিছুক্ষণ আগে সেই এমপিকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এই যে একটা সাহসী পদক্ষেপ নিতে পেরেছে আমরা মনে করি এটা সব রাজনৈতিক দলের জন্য একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হলো। একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হলো।’
কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদসহ কুড়িগ্রাম জেলার নেতারা।





