মির্জাগঞ্জ
আ. লীগ নেতার বাড়ি ভেঙে মালামাল লুট, শেষে আগুন

ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাভলুর বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে বাসার মালামাল লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা।
গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের কাঠালতলী বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
বাসাটির মালিক মিজানুর রহমান লাভলু কাজী উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
স্থানীয়রা জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মিজানুর রহমান লাভলু কাজী সপরিবারে এলাকা ছেড়ে চলে যান। তার মা বাড়িতে একা বসবাস করতেন। শুক্রবার বিকেলে অসুস্থ হয়ে তার মা স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে বাড়িটি ফাঁকা হয়ে যায়। এ সুযোগে রাতে এসকাভেটর দিয়ে একতলা ভবনটি আংশিক গুঁড়িয়ে দিয়ে ভেতরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
লাভলু কাজীর স্ত্রী শিল্পি বেগম জানান, ঘটনা শুনে রাতেই ঢাকা থেকে এসে আত্মীয় স্বজন নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। আর কিছু বলতে পারবে না মোবাইলে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লাভলুর ফুফাত বোন মুকুল বেগম জানান, লাভলুর জনপ্রিয়তা দেখে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ কাজ করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। কিছু মালামাল ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় পড়ে আছে।
মিজানুর রহমান লাভলু কাজী জানান, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ঘরের আলমারিতে থাকা স্বর্ণালংকার, মূল্যবান কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী পাশা জানান, ‘২০০৩ সালে পাবলিক লাইব্রেরির জন্য রেজিস্ট্রিকৃত জমি দখল করে চেয়ারম্যান বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। জমি বা বাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে আমার বা আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।’
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বাড়িটি আংশিক সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




