‘শরিয়তবিরোধী’ বলে আবেদনের পর কিশোরগঞ্জে কনসার্ট বন্ধ

কিশোরগঞ্জে ভাঙা হচ্ছে কনসার্টের মঞ্চ— আগামীর সময়
কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে কনসার্ট আয়োজন করার কথা ছিল আজ বুধবার। মঞ্চসহ সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল। ইমাম-উলামা পরিষদের আবেদনের পর শেষ মুহূর্তে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়, হবে না কনসার্ট। এতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল কণ্ঠশিল্পী নোবেল ও জুনায়েদ এবং অ্যাশেজ ব্যান্ডের শিল্পীদের।
গত সোমবার কনসার্ট বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন সদর উপজেলা ইমাম-উলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা আহমাদুল্লাহ। এরপরই মঙ্গলবার প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত আসে কনসার্ট বন্ধের।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘কনসার্ট শরিয়তবিরোধী। এটি বন্ধ না হলে ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’
এদিকে কনসার্ট বাতিলের দাবিতে আজ বুধবার বিকালে শহরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছিল ইমাম-উলামা পরিষদ ও তৌহিদী জনতা। তবে এর আগেই কনসার্টের বন্ধের সিদ্ধান্ত আসে।
প্রশাসন জানিয়েছে, আয়োজক হোটেলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় কনসার্ট বন্ধ করা হয়েছে।
আয়োজক মো. ইব্রাহিম খলিল বলেছেন, ‘নিষেধ করার পর আজ সকাল থেকেই ডেকোরেটরকর্মীরা মঞ্চ ও অন্যান্য সরঞ্জাম খুলে নিয়েছেন। পৌরসভা কার্যালয় এলাকার আলিশান রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার পর ভোক্তাদের একটি করে কুপন দেওয়া হয়েছিল। সেই কুপনের র্যাফেল ড্রকে কেন্দ্র করেই কনসার্টটির আয়োজন করা হয়। প্রায় এক মাস আগে থেকেই কনসার্টের প্রস্তুতি চলছিল। শেষ মুহূর্তে কনসার্ট বন্ধ হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।’
জেলা ইমাম-উলামা পরিষদের সহসভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশিদ বলেছেন, ‘আমরা কনসার্ট বন্ধ করার জন্য আবেদন করেছিলাম। বন্ধ করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে বুধবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরই প্রশাসন বৈঠকে বসে। যাচাই বাছাই করে জানতে পারেন হোটেলের কাগজ ঠিক নাই সেজন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কনসার্ট। ভবিষ্যতেও কিশোরগঞ্জে এ ধরনের কোনো প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হবে না। শরিয়তের বাহিরে কোন প্রোগ্রাম কিশোরগঞ্জে বিগত সরকারের আমলে হয়নি, এখনও হবে না, ভবিষ্যতেও হবে না।’
সংস্কৃতিকর্মী শিল্পী আবুল হাসেম বললেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও শিল্পীদের ওপর মব করা হয়েছে। কোনো সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হয়নি। বর্তমান নির্বাচিত সরকার সংস্কৃতিকে লালন করলেও শরিয়তের দোহাই দিয়ে কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া মানা যায় না। ভবিষ্যতে শরিয়তের নামে শিল্পকলা, রেডিও, টেলিভিশন চলবে না বলেও আন্দোলন করা হতে পারে। তাই এখনই সরকারকে শিল্প সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার জন্য উদ্যোগী হতে হবে।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন আগামীর সময়কে বললেন, ‘কনসার্ট আয়োজনের জন্য আমাদের কাছে আবেদন করেছিল। আমরা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেছি। যে আলিশান রেস্টুরেন্টের উদ্যোগে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল সেটি কোনো নিবন্ধিত হোটেল নয়। নিবন্ধন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের কনসার্ট আয়োজনের সুযোগ নেই। নিবন্ধনের আবেদন করলে পরবর্তীতে আমরা অন্য কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’







