বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা, পরদিনই ডিসি প্রত্যাহার-ইউএনও বদলি

ডিসি আসমা শাহীন এবং ইউএনও মো. বরকত উল্লাহ— সংগৃহীত
নাটোরে দুই ইউএনও কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার পরদিন প্রত্যাহার হয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীন। বদলি করা হয়েছে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে আলাদা দুই প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। তাতে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা না থাকলেও এলাকায় গুঞ্জন- সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই এই ঘটনা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে সংযুক্ত করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। আর লালপুর ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে বদলি করা হয়েছে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে।
গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে তুলে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। নিজ নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করা হয় দুই ইউএনওকে।
এ ঘটনায় লালপুর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় মামলা করেন।
লালপুরের মামলায় আসামি করা হয়েছে গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের ১৮ জন নেতাকর্মীকে।
বাগাতিপাড়া মামলার আসামিরা হলেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা ও যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের সাতজন।
নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ আগামীর সময়কে বললেন, ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অফিসে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ থাকলে মামলা করতে কোনো আপত্তি নেই। তবে ঢালাওভাবে বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। দলকে হেয় করার উদ্দেশে একটি মহল এটা করছে।’
এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন ও লালপুর থানার ইউএনও বরকত উল্লাহকে একাধিকবার ফোন করলেও কেউ রিসিভ করেননি।







