বাউফলের সেই তিন ভাইয়ের ব্যাংকে জমা হলো ১২ লাখ টাকা

বাউফলে তিন প্রতিবন্ধী ভাই রিপন দাস, সাধন দাস ও নিদু দাস। ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের জন্য খোলা হয়েছে একটি বিশেষ ব্যাংক হিসাব। তাদের অসহায় জীবনযাপনের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ সেখানে পাঠিয়ে আর্থিক সহায়তা। অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে মোট ১১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮১ টাকা।
আজ রবিবার সকালে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনএ) কার্যালয়ে তিন ভাইকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বৈঠক। এরপর তাদের নামে অগ্রণী ব্যাংকের বাউফল শাখায় অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সহায়তার অর্থ জমা করা হয় সেখানে।
উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের চাদকাঠি গ্রামের দাসনগর এলাকায় বাড়ি রিপন দাস, সাধু দাস ও নিধু দাসের। এর মধ্যে সাধন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, আর রিপন ও নিদু বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। মায়ের মৃত্যুর পর তাদের মানবেতর জীবনযাপনের খবর সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। খবরের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, মায়ের সমাধিস্থলে বসে আছেন তারা।
সহায়তার অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা অমিত দাস জানালেন, সংবাদ প্রকাশের আগেই বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতায় প্রায় দুই লাখ টাকা সংগ্রহ হয়েছিল। পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং প্রবাসী বাংলাদেশির কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিপুল আর্থিক সহায়তা আসে। সব মিলিয়ে মোট ১১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮১ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে।
‘মানুষের ব্যাপক সাড়া ও সহযোগিতার ফলে এত অর্থ সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে তিন ভাইয়ের কল্যাণে যাতে অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়, সে জন্য ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে’— যোগ করেন তিনি।
এদিকে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার এক মাসের বেতনের ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়েছেন তিন ভাইকে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওই অর্থও আলাদাভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাউফলের ইউএনও মো. সালেহ আহমদ বলেছেন, ‘তিন ভাইয়ের উপস্থিতিতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তার অনুমোদন থাকবে, যাতে অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়।’
‘চিকিৎসা, জরুরি প্রয়োজন বা বিশেষ কোনো কাজে অর্থের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা যাবে। এছাড়া জমাকৃত অর্থের মুনাফার একটি অংশ নিয়মিতভাবে তাদের জীবনযাপনের খরচে ব্যয় করা হবে’— ব্যাখ্যা করলেন তিনি।




