রংপুরে দুটি বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শেষ হয়েও হলো না শেষ

আসন সংকট দূর করার লক্ষ্যেই দুটি নতুন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। ছবি : আগামীর সময়
শিক্ষার্থীদের আসন সংকট কমানোর আশা নিয়ে রংপুরে শুরু হয়েছিল নতুন দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণকাজ। তিন বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে, কেটে গেছে আরও একটি বছর। তবু শেষ হয়নি কাজ। একটির নির্মাণ শেষ পর্যায়ে, অন্যটির কাজ শেষ হতে লাগতে পারে আরও এক বছর।
দীর্ঘদিনের দাবির পর নতুন দুটি বিদ্যালয় পাওয়ার যে আনন্দ ছিল রংপুরবাসীর, নির্মাণকাজের ধীরগতি তাতে ভাটা ফেলেছে। চার বছরেও প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা।
অভিভাবকরা বলছেন, মূলত নগরীতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় নতুন দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বর্তমানে নগরে একটি সরকারি বালক ও একটি বালিকা বিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও হাজার হাজার শিক্ষার্থী পায় না পড়ার সুযোগ।
আসন সংকট দূর করার লক্ষ্যেই দুটি নতুন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রকল্পের তথ্য বলছে, প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায় ২০১৮ সালে। নগরীর হাজীপাড়ার পুরনো রেডিও সেন্টার এবং বোতলা এলাকায় বিদ্যালয় দুটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। ভূমি অধিগ্রহণ ও দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের মার্চে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএসএল-এসই-এমএ জেভিকে দেওয়া হয় কার্যাদেশ। ওই বছরের ২৩ আগস্ট থেকে শুরু হয় নির্মাণকাজ। প্রতিটি বিদ্যালয় নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ২৩ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার ৪৩২ টাকা। ১০ তলা ভবনবিশিষ্ট বিদ্যালয় দুটির নির্মাণকাজ শুরুর দিন থেকে তিন বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে চার বছরেও বিদ্যালয় দুটি চালুর উপযোগী হয়নি।
পুরনো রেডিও সেন্টার এলাকার বিদ্যালয়ের মূল ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ এখনো অসমাপ্ত। ভবনের প্লাস্টার, রঙ এবং জানালার গ্রিল লাগানোর কাজ বাকি। তবে বোতলা এলাকার বিদ্যালয়ের মূল নির্মাণকাজ অনেকটাই শেষ। যদিও রঙসহ কিছু আনুষঙ্গিক কিছু কাজ এখনো বাকি।
নগরীর শালবন এলাকার গৃহিণী মমতাজ বেগমের অভিযোগ, তাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বেসরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানদের পড়াশোনা করানো কষ্টের। রংপুরে সরকারি একটি বালক ও একটি বালিকা বিদ্যালয়ে আসনও সীমিত। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেও সবার আশা পূরণ হয় না।
রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান মনে করেন, সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করে। নতুন দুটি বিদ্যালয় চালু হলে আসন সংকট অনেকটাই কমে যেত। কিন্তু সময়মতো নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সেই সুফল মিলছে না। তার আশঙ্কা, কাজের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী আগামী শিক্ষাবর্ষেও বিদ্যালয় দুটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো সম্ভব হবে না।
পুরনো রেডিও সেন্টার এলাকার বিদ্যালয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদ জানিয়েছেন, নিয়মিত ও ঠিকমতো কাজ করতে পারলে এখানকার নির্মাণকাজ শেষ করতে আরও অন্তত ছয় মাস লাগবে।
কাজের বিলম্বের কথা স্বীকার করেছেন রংপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রতীশ চন্দ্র সেন। তিনি দাবি করেন, করোনা মহামারী-পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি এবং কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি।
তবে বোতলা এলাকার বিদ্যালয়টির কাজ আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি। কাজ শেষ হলে নিয়োগ পাওয়া প্রধান শিক্ষকের কাছে ভবন হস্তান্তর করা হবে।
অন্যদিকে পুরনো রেডিও সেন্টার এলাকার বিদ্যালয়টির অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এর নির্মাণকাজ শেষ হতে আরও প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।





