চুরি করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ে মুক্তি, কয়েক ঘণ্টা পর ধরা মাদকসহ

মাদকসহ আটক মো. করিম। পুলিশের হাতে আটকের আগে চুরি করে ধরা পড়েন স্থানীয়দের কাছে। পরে ১০০ রাকাত নফল নামাজ ও তওবা করে পান মুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোবাইল ফোন ও নারীদের ব্যাগ চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় এবং তওবা করিয়ে ছেড়ে দেন স্থানীয়রা।
তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় তাকে।
গত শুক্রবার বিকালে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ফকির আস্তানা এলাকায় প্রথম ঘটনাটি ঘটে। রাতে তাকে আটক করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।
অভিযুক্তের নাম মো. করিম। তিনি জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, মোবাইল ফোন ও এক নারীদের ব্যাগ চুরির অভিযোগে করিমকে আটক করা হয়েছিল। তার অসহায় পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়রা পুলিশে না দিয়ে শেষবারের মতো সংশোধনের সুযোগ দেন। ভবিষ্যতে চুরি বা অন্য কোনো অসৎ কাজে জড়াবেন না, এমন প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়। শাস্তিস্বরূপ তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করতে বলা হয়। নামাজ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় যুবক ইকবাল হোসেন বলেছেন, ‘ভালো হওয়ার অঙ্গীকার করে তওবা করার পর করিমকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতেই তিনি মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হন। নিজের ভেতর থেকে পরিবর্তনের ইচ্ছা না থাকলে কাউকে জোর করে সংশোধন করা কঠিন।’
আরেক স্থানীয় যুবক তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, করিমকে অসহায় মনে করে শেষবারের মতো সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আবার আইনের আওতায় চলে যান। ঘটনাটি দুঃখজনক।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, স্থানীয়রা চুরির অভিযোগে করিমকে আটক করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে রাতে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।





