শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রতিবেশীর মৃত্যুদণ্ড

শিশু জান্নাতুল মাওয়া
নড়াইলের সদর উপজেলায় পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার একমাত্র আসামি প্রতিবেশীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ আদেশ দেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলাম। মাত্র ৯ কার্যদিবসে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এ সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম রবিউল সিকদার রবির (৩৭)। তিনি উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় রাজমিস্ত্রি। জান্নাতুল একই উপজেলার দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নড়াইল জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান লিটু।
তিনি বললেন, মাত্র ৯ কার্যদিবসে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট মামলার চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক অজয় কুমার কুন্ডু। মৃত্যুণ্ডের আদেশে বাদিপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। আশা করছি রায় দ্রুত কার্যকর হবে। এ মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তবে লিগ্যাল এইড থেকে একজন আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়।
গত ২০ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জান্নাতুলকে নিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে নুডুলস কিনে বাড়িতে যান বাবা মফিজুর রহমান। পরে জান্নাতুলের মা লাবনী খানম মেয়ের জন্য নুডুলস রান্না করে খাওয়ার জন্য তাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তাকে খোঁজা শুরু করেন। একপর্যায়ে ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে রবিউলের ঘর থেকে জান্নাতুলকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনার পর রবিউল পালিয়ে গেলেও পরদিন সকাল ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় গত ২১ জুলাই শিশু জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় রবিউলকে একমাত্র আসামি করা হয়।







