সারজিস আলম
সাড়ে চার মাসে ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক লোন নিয়েছে বিএনপি

ছবি: আগামীর সময়
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, 'বিএনপি ক্ষমতায় আসার মাত্র সাড়ে চার মাসের মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছে। ব্যাংক খাত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা উল্টো আগের ব্যাংক লুটেরাদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে বিসিবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিবারতন্ত্র, প্রশাসনে দলীয়করণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে প্রতারণা করছে বিএনপি।
আজ শুক্রবার রাতে রাজশাহীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
সারজিজের ভাষ্য, ‘৫ আগস্ট রাজপথে দাঁড়িয়ে আমরা যে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম, দুই বছর পরও সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ পাইনি। বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে সাড়ে চার মাস হয়েছে। এই সময়ে তাদের শতাধিক সমালোচনা করা যাবে, যার জবাব তাদের কাছে নেই। তারা সাড়ে চার মাসে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। ব্যাংক সংস্কারের পরিবর্তে পুরোনো ব্যাংক লুটেরাদের সুবিধা দিতে ব্যাংক রেজুলেশন আইন বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।’
এনসিপির এই নেতার অভিযোগ, বিএনপি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মতো প্রতিষ্ঠানেও নিজেদের আত্মীয়-স্বজন ও অনুসারীদের বসিয়ে নতুন করে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। নিজেদের ঘোষিত ৩১ দফার বিপরীতে জেলা ও বিভাগীয় শহরে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতির সঙ্গেই প্রতারণা করেছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বললেন, ‘সচিব থেকে ডিসি, এসপি- সব জায়গায় আবারও স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ শুরু হয়েছে। যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
‘তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ যত কাজ করেছে, তার চেয়ে বেশি চুরি করেছে। আমরা সেই বক্তব্যকে সমর্থন করি। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, যারা চুরি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি কী ব্যবস্থা নিয়েছে?’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রসঙ্গে বলছিলেন সারজিস।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খননসহ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লুটপাট হচ্ছে। ‘যে খাল হওয়ার কথা, তা হয়নি। কিন্তু বরাদ্দের টাকা শেষ হয়ে গেছে। এ ধরনের খবর গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।’
‘আগে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন একজন নারী, এখন একজন পুরুষ। কিন্তু সিস্টেম একই রয়ে গেছে। পার্থক্য শুধু ব্যক্তির। সরকারি সুযোগ-সুবিধা যদি শুধু একটি দলের নেতাকর্মীদের জন্য হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য পরিবর্তন কোথায়? বিএনপি কি শুধু ধানের শীষের সরকার, নাকি পুরো বাংলাদেশের সরকার- এই প্রশ্নের জবাব তাদের দিতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বললেন, রাজনৈতিক দল বা পারিবারিক ঐতিহ্য দেখে নয়, যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে নেতৃত্ব বেছে নিতে হবে। তা না হলে নতুন করে আরেকটি স্বৈরাচারের পথ তৈরি হবে।রাজমিস্ত্রীর ছেলে, কৃষকের ছেলে কিংবা সাধারণ পরিবারের সন্তান যদি জনগণের প্রতিনিধি হতে পারেন, তাহলে নতুন প্রজন্মের তরুণরাও নেতৃত্ব দিতে পারবেন।’
‘আমরা স্বৈরাচারের সামনে মাথা নত করিনি। আগামীতেও কোনো পুরোনো বন্দোবস্ত বা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। অক্টোবর থেকে স্থানীয় নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। তবে প্রশাসন ব্যবহার করে, কালো টাকা কিংবা প্রভাব খাটিয়ে ভোটে কারচুপির চেষ্টা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।আমাদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণভোটের রায়, বিদ্যুতের লোডশেডিং বন্ধ, যুবকদের কর্মসংস্থান, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে সারজিস আলমের বক্তব্য, ‘গণহত্যার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হলে তার দায় বিএনপিকেও নিতে হবে।’
এনসিপি রাজশাহী মহানগরের সভাপতি মোবাশ্বের আলীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম- আসনের সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ, জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসানসহ কেন্দ্রীয়, রাজশাহী জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে রাজশাহীর আলুপট্টি থেকে পদযাত্রা শুরু করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। পরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে রাজশাহীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন নেতাকর্মীরা।




