শেরপুর
বন্যহাতি রক্ষায় এক টেবিলে পাহাড়ি জনপদ

ছবি: আগামীর সময়
শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারোপাহাড় এলাকায় হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব দিন দিন বাড়ছে। খাদ্যের সন্ধানে পাহাড় থেকে লোকালয়ে নেমে আসা বন্যহাতির আক্রমণে ফসল, ঘরবাড়ি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। আবার আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে হাতিও। এমন পরিস্থিতিতে হাতি-মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত এবং চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনের লক্ষ্যে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জের বাতকুচি এলাকায় ‘যৌথ আলাপচারিতা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার বিকালে আয়োজিত এ সভায় হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি), প্রকৃতিপ্রেমী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। তারা হাতি-মানুষের দ্বন্দ্বের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে গারোপাহাড়ে বন্যহাতির জন্য একটি নিরাপদ অভয়ারণ্য গড়ে তোলার দাবি জানান।
‘হাতি বাঁচলে, বাঁচবে গারোপাহাড়’—এই প্রতিপাদ্যে শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এবং নাগরিক প্ল্যাটফর্ম জনউদ্যোগ শেরপুর যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি), প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন এবং টুগেদার ফর এডুকেশন, অ্যাথলেটিকস অ্যান্ড মিশন (টিম)।
জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটির আহ্বায়ক ও শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কবি জ্যোতি পোদ্দার, সমন্বয়ক সাংবাদিক হাকিম বাবুল, স্থানীয় ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম, ইআরটি সদস্য মো. আসমত আলী এবং টিম সদস্য ইলিয়াস খান।
আলোচনায় হাতি-উপদ্রুত বাতকুচি এলাকার বাসিন্দারা তাদের অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানালেন, মানুষের জানমাল ও ফসল রক্ষার পাশাপাশি বন্যহাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।




