‘রাউজানে খুনের জের চট্টগ্রাম শহরে’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম নগরীতে যুবক রাজু খুনের ঘটনায়ও বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের গ্রুপের ক্যাডারদের জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। শুধু রাজু নয়, চট্টগ্রামে গত দুই বছরে অন্তঃত এক ডজন খুনের সঙ্গে এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সম্পৃক্ততার তথ্য আছে পুলিশের কাছে। কিন্তু কিছুই করতে পারছে না তারা।
সর্বশেষ ঘটনার পর সিএমপি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কয়েকদিন আগে রাউজান উপজেলায় যুবদল কর্মী মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন তালুকদারকে খুনের মামলার আসামি ছিলেন এই রাজু। সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে রাজুকে খুন করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০ ঘণ্টা পার হলেও এখনও থানায় মামলা হয়নি। জড়িতদের কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি।
প্রাথমিক তদন্তে বেশকিছু অগ্রগতি আছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) আমীরুল ইসলাম, ‘রাউজানে নাসির নামে এক ব্যক্তি খুন হন। ওই ঘটনায় আদালতে একটি মামলা হয়। সেই মামলার সাত নম্বর আসামি ছিলেন রাজু। রাজু হত্যাকাণ্ডে বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা সম্পৃক্ত।’
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১০টার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকার শহীদ মিনার গলির বিহারি কলোনিতে একদল অস্ত্রধারীর গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মোহাম্মদ হাসান রাজু (২৪)। তিনি রাউজানের কদলপুর গ্রামের বাসিন্দা।
একই ঘটনায় চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে রেশমি আক্তার নামে ১১ বছরের এক শিশু চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
এর আগে, গত ২৬ এপ্রিল রাতে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ঈশানভট্টেরহাট এলাকায় অস্ত্রধারী দৃর্বৃত্তরা মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন তালুকদারকে গুলি করে খুন করে। যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নাসির রাউজানের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী ক্যাডার রায়হানের সঙ্গে নাসিরের ঘনিষ্ঠতা ছিল। রাউজানে চাঁদাবাজি, বালুমহাল দখল-নিয়ন্ত্রণসহ ক্যাডারভিত্তিক আধিপত্যের রাজনীতির জেরে নাসির খুন হন। আর এই খুনের সঙ্গে জড়িত হাসান রাজু হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে চট্টগ্রামে চলে আসে। কিন্তু বড় সাজ্জাদের বাহিনীর টার্গেটের মধ্যে ছিলেন রাজু।
তিন থেকে চারজন অস্ত্রধারী কাছ থেকে গুলি করে রাজুকে খুন করে বলে জানালেন বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল করিম, ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট টার্গেট কিলিং এটা। মূল কিলার তিন থেকে চারজন। ব্যাকআপ টিমে আরও কেউ থাকতে পারে। রাউজানে নাসির খুনের ঘটনার জের চট্টগ্রাম শহরে আমাদের এলাকায় এসে পড়েছে।’
নিহত হাসান রাজু কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন কি না জানতে চাইলে ওসি বললেন, ‘সেই তথ্য আমরা এখনও পাইনি। তবে এলাকাভিত্তিক বিরোধ ছিল। রাজুর পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, তিনদিন আগে সে বিহারি কলোনিতে তার বোনের বাসায় বেড়াতে আসে। এমনও হতে পারে যে, নাসির হত্যাকাণ্ডের পর সে এখানে এসে আত্মগোপন করেছিল।’
নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার দুপুরে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশ দাফন শেষে পরিবারের সদস্যরা মামলা করার জন্য থানায় আসবেন বলে জানান ওসি আবদুল করিম।






