মাছধরার ট্রলারে আগুন, ঢাকায় নেওয়া ৩ জন সংকটাপন্ন

ছবি: আগামীর সময়
১১ জুন মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সোমবার মাছ নিয়ে সদরঘাটে ফিরেছিল এফভি দেশ। মাছ নামানোর কাজ চলছিল। কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট এলাকায় নোঙর করা অবস্থায় ছিল জাহাজ এফভি দেশ। ওখানেই হঠাৎ মঙ্গলবার দুপুরে জাহাজটিতে আগুন লাগে। এই আগুনের আঁচ গিয়ে পড়ে পাশের এফবি ডিজনিতেও।
এতে ছয়জন দগ্ধ হয়। ছয়জনকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকায়। তারা হলেন দেশ জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ার ক্যাডেট আশিকুজ্জামান তামিম, গ্রিজার রুবেল ও শাহ আলম। তিনজনের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে।
পাশে থাকা জাহাজ ডিজনির তিনজনের হালকা আঁচ লেগেছে। তারা হলেন উইন্স অপারেটর নিজাম উদ্দিন, ডুবুরি রাসেল ও ছিদ্দিক আহমেদ।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস খালেদ জানান, ঢাকায় নিয়ে যাওয়া তিনজনই সংকটাপন্ন। পথেই কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনজনের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে। আমরা তাদের এখানে আইসিইউতে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জাহাজ কর্তৃপক্ষ নিয়ে গেছে।’
তিনি বলছিলেন, ‘বাকি তিনজনের হালকা আঁচ লেগেছে। সামান্য শ্বাসনালীতে লেগেছে। ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাদের।’
চিকিৎসাধীন নিজাম উদ্দিনের মুখে সামান্য পুড়েছে। তিনি জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ পান পাশের জাহাজের ইঞ্জিন রুম থেকে। এরপর আগুনের আঁচ এসে তিনজনের গায়ে লাগে। ‘আমরা একবার মাছ ধরে এসেছি। দ্বিতীয়বারের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় এই ঘটনা ঘটে।’
এফবি দেশ-এর ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ বলছিলেন, ‘সাগর থেকে মাছ ধরা শেষে সোমবার দুপুরে আমরা কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট সাম্পান ঘাটে নোঙর করি। আজ পৌনে ১টার দিকে জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে হঠাৎ বিকট শব্দে আগুনের সূত্রপাত হয়। জেনারেটর থেকে আগুন লাগে বলে ধারণা।’
ঢাকায় পাঠানো তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছি। যাওয়ার পথে বিকেলে সীতাকুণ্ডে সড়ক অবরোধের মুখে পড়েছে তারা। এখনো পৌঁছায়নি। খুবই সংকটাপন্ন তারা।
এই ঘটনায় জাহাজটির আনুমানিক ৭০ লাখ টাকা ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে সদরঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে।





