এনসিটি ইজারার প্রতিবাদ, অনশন শেষে মশাল মিছিল কর্মসূচি

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে এবার মশাল মিছিল করবে বন্দর রক্ষা কমিটি। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে শনিবার সকাল থেকে টানা পাঁচঘণ্টা প্রতীকী গণঅনশন শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দিল সংগঠনটি। ইজারা প্রক্রিয়া না থামালে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি এসেছে সংগঠনের বক্তাদের কাছ থেকে।
রাজনীতিবিদ, শ্রমিক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের গণঅনশন ভাঙাতে দুপুরে প্রেসক্লাবের সামনে যান কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন। সেখানে তিনি জানান, বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল। জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জনগণের মতামত, বিশেষজ্ঞদের অভিমত এবং সংসদীয় আলোচনার প্রয়োজন ছিল। জনগণকে অন্ধকারে রেখে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জনগণের শান্তিপূর্ণ এই প্রতিবাদের প্রতি সরকারকে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।
সিপিবির সাবেক সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম বলেছেন, রাষ্ট্রের কৌশলগত ও লাভজনক সম্পদ জনগণের সম্পদ। জনগণের সম্পদ বিদেশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য শুভ নয়। অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা দেয়, জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির পরিণতি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জনগণকেই বহন করতে হয়।
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত জানান, সরকার অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধের ঘোষণা না দিলে শ্রমিক সংগঠনগুলো বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সিবিএর সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার জানিয়েছেন, বন্দরের উন্নয়নের প্রয়োজন হলে সরকার আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও জনবল উন্নয়নে বিনিয়োগ করুক। কিন্তু জাতীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে উন্নয়নের কথা বলা যায় না। বন্দর রক্ষার এই আন্দোলনে শ্রমিকরা অতীতের মতো এবারও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
অনশন কর্মসূচি শেষে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার আগামী ২২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত মশাল মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দেন।




