চট্টগ্রাম ওয়াসার গোপন নথি ছড়িয়ে পড়ল ফেসবুকে

চট্টগ্রাম ওয়াসার গোপনীয় নথিপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে উঠেছে এক কর্মীর বিরুদ্ধে।
কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সংস্থার গোপন নথিপত্র নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করায় ওই কর্মীর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে অসদাচরণের অভিযোগ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হয়েছে বিভাগীয় মামলাও।
অভিযুক্ত কাজী মহিন উদ্দিন মানিক চট্টগ্রাম ওয়াসার মোহরা পানি শোধনাগারের সহকারী অপারেটর (পাম্প) পদে কর্মরত।
ওয়াসা কর্তৃপক্ষ মানিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না, চাওয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যাও।
গত ৩০ মার্চ ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত এক অভিযোগনামা থেকে জানা গেছে মানিকের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি।
‘ওই কর্মীকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে’—জানালেন ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা।
অভিযোগনামার তথ্য অনুযায়ী, কাজী মহিন উদ্দিন মানিক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি (Kazi Manik W.) থেকে ২০২৩ সালের ২৮ মে চট্টগ্রাম ওয়াসার অভ্যন্তরীণ নোটশিট ও অফিস আদেশের ছবি পোস্ট করেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অফিসের এ ধরনের গোপন নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ১৮ ও ১৯ নম্বর বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই কর্মকাণ্ডকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করেছে কর্তৃপক্ষ।
গোপন নথি প্রকাশের পাশাপাশি ওই কর্মীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের আনা হয়েছে অভিযোগও। এ ছাড়া সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা এক সাংবাদিককে মারধর ও তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার ঘটনায়ও অভিযুক্ত করা হয়েছে মানিককে।
কারণ দর্শানোর নোটিশে ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল দাবি করেছেন কাজী মহিন উদ্দিন মানিক। তবে তার এই দাবি নাকচ করেছে কর্তৃপক্ষ।
‘মানিক যে তারিখে আইডি হ্যাক হওয়ার জিডি করেছেন, নথি ফাঁসের ঘটনা তার প্রায় এক মাস আগের। ফলে তার দেওয়া জবাব প্রতীয়মান হয়েছে অসত্য ও ভিত্তিহীন’—উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগনামায়।















