আগামীর সময়

২ বছরে ৩ প্রধানমন্ত্রী : নতুন সরকার গঠনে থাইল্যান্ডে চলছে ভোটগ্রহণ

২ বছরে ৩ প্রধানমন্ত্রী : নতুন সরকার গঠনে থাইল্যান্ডে চলছে ভোটগ্রহণ

সংগৃহীত ছবি

দুই বছরে তিন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের পর নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে রবিবার থাইল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রক্ষণশীল, প্রগতিশীল ও জনতাবাদী—এই তিন শিবিরের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে কোনো একক দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না। ফলে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি আকস্মিক নির্বাচনের ঘোষণা দেন। তখন থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আবহকে কাজে লাগাতেই রক্ষণশীল এই নেতা নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করেন।

সে সময় আনুতিন ক্ষমতায় ছিলেন ১০০ দিনেরও কম। কম্বোডিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে জনতাবাদী ফেউ থাই পার্টির প্রধানমন্ত্রী পাতোংতার্ন শিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব নেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কোটিপতি থাকসিন শিনাওয়াত্রার সমর্থনপুষ্ট ফেউ থাই পার্টি এখন কিছুটা দুর্বল হলেও পুরোপুরি মাঠছাড়া হয়নি বলে জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রচারণাকালজুড়ে ধারাবাহিকভাবে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে প্রগতিশীল পিপলস পার্টি, যারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন ও সংস্কারের বার্তা দিচ্ছে।

ব্যাংককের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী থিতিনান পংসুধিরাক বলেন, ‘থাইল্যান্ড কি তার দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে পারবে?, এই নির্বাচন মূলত এ প্রশ্নেরই উত্তর দেবে। প্রাথমিকভাবে বলতে গেলে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার ধারণা, দেশটি তা পারবে না।’

আনুতিনের ক্ষমতাসীন ভূমজাইথাই পার্টি ও ফেউ থাইয়ের সঙ্গে তীব্র লড়াই চালালেও পিপলস পার্টির এককভাবে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো সমর্থন নাও থাকতে পারে। এতে করে দলটির পূর্বসূরি দলের মতো একই পরিণতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

২০২৩ সালের নির্বাচনে পিপলস পার্টির পূর্বসূরি মুভ ফরোয়ার্ড দল বিজয়ী হলেও সামরিক নিয়োগপ্রাপ্ত সিনেট ও রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের বাধায় সরকার গঠন করতে পারেনি। এর ফলে ফেউ থাই ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়।

দীর্ঘদিন ধরে রাজতন্ত্রপন্থী রক্ষণশীল শক্তি ও জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব থাইল্যান্ডে বারবার অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজপথের আন্দোলন, সহিংসতা এবং সামরিক অভ্যুত্থান।

    শেয়ার করুন: