বিশ্বকাপ ফাইনালে ট্রাম্পের নিরাপত্তায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান

ডোনাল্ড ট্রাম্প- রয়টার্স
বিশ্বকাপের ফাইনালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিকে ঘিরে পরিচালনা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রীড়া নিরাপত্তা অভিযান। এ জন্য মোতায়েন করা হয়েছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, সামরিক স্নাইপার এবং হাজারো ফেডারেল নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
ফাইনালকে কেন্দ্র করে জারি করা নো-ফ্লাই জোন কঠোরভাবে পাহারা দেওয়া হবে। স্টেডিয়ামের ছাদে অবস্থান নেবেন স্নাইপাররা। পাশাপাশি হাজারো এফবিআই কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা অভিযানে।
হোয়াইট হাউস স্বীকার করেছে, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে দর্শকদের উল্লেখযোগ্য বিলম্বের মুখে পড়তে হবে। তাই সমর্থকদের কিক-অফের অন্তত চার ঘণ্টা আগে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা শ্রেণি ‘লেভেল–১’ বিশেষ ইভেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্বকাপের ফাইনালকে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপ্তি সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি টেলিগ্রাফ স্পোর্টকে বলেছেন, এই আয়োজনের নিরাপত্তা ট্রাম্পের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ কিংবা প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানের সমতুল্য।
তিনি বললেন, ‘সত্যি বলতে, এটি সুপার বোলের চেয়েও বড়।’ তিনি আরও বলেছেন, নিউ জার্সি স্টেট পুলিশের পাশাপাশি বহু ফেডারেল সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যে একটি ছোট বেসামরিক উড়োজাহাজকে বাধা দিয়েছে। সেটি ফাইনালকে কেন্দ্র করে জারি করা সাময়িক উড়োজাহাজ চলাচল নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছিল।
নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানটি প্রথমে পাইলটের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ফ্লেয়ার ছোড়ে। এরপর নিরাপদে উড়োজাহাজটিকে নিষিদ্ধ আকাশসীমার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে নোরাড ঘোষণা দিয়েছিল, শুক্রবার থেকে রবিবারের ফাইনাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জারি করা একাধিক সাময়িক উড়োজাহাজ চলাচল নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এবারের ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা।
টুর্নামেন্ট চলাকালে স্টেডিয়ামের আশপাশের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় উড়তে থাকা শত শত ড্রোনও জব্দ করেছে এফবিআই।
ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় দর্শকদের বিলম্বের প্রধান কারণ হবে এই নিরাপত্তা বলয়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ট্রাম্পের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শকপ্রিয়, সবচেয়ে নিরাপদ এবং সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপের সমাপ্তি ঘটবে।’
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প কোনো ক্রীড়া ইভেন্টে উপস্থিত হলে প্রায়ই দর্শকদের প্রবেশে বিলম্ব দেখা যায়। তিনি সম্প্রতি এনবিএ ফাইনালের একটি ম্যাচেও উপস্থিত ছিলেন।




