জরিপ
ইরান যুদ্ধে আর্থিক চাপে মার্কিন নাগরিকরা

সংগৃহীত ছবি
জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ পড়তে শুরু করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক তেল সরবরাহে প্রভাব ফেলায় অধিকাংশ আমেরিকান মনে করছেন জ্বালানির দাম আরো বাড়বে। রয়টার্স/ইপসোসের এক নতুন জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে ৫৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধি তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থায় অন্তত ‘কিছুটা’ প্রভাব ফেলেছে। এদের মধ্যে ২১ শতাংশ বলেছেন, তাদের আর্থিক অবস্থা ‘বড় ধরনের’ প্রভাবের মুখে পড়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় এক ডলার বেড়েছে। হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে অতিরিক্ত হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসন বিবেচনা করছে। কিছু কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, এর জন্য ইরানের উপকূল পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।
জ্বালানির দাম আরও বাড়ার শঙ্কা
জরিপে ৮৭ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, আগামী এক মাসে জ্বালানির দাম আরও বাড়বে। একই সঙ্গে অনেকেই মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় আকারের স্থল অভিযান চালাতে সেনা পাঠাতে পারে, যদিও এ ধরনের পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন কম।
ট্রাম্প গত বছর ক্ষমতায় ফিরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি গত মাসেও বলেছিলেন, দেশটি ‘স্বর্ণযুগে’ রয়েছে। তবে যুদ্ধের আগেই খুব কম আমেরিকান এই দাবির সঙ্গে একমত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নিজেই ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতিতে তার ভূমিকার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘অর্থনীতি ভালো ছিল... সবকিছুই ভালো ছিল। কিন্তু ইরানে যা ঘটছিল তা দেখে আমি বলেছিলাম, এটা করতে চাই না, কিন্তু আমাদের এটা করতেই হবে।’
এই মূল্যবৃদ্ধি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের অবস্থান দুর্বল করতে পারে। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, নভেম্বরে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয়ই হবে সবচেয়ে বড় ইস্যু।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ৬৩ শতাংশ আমেরিকান অপছন্দ করেছেন, যা তার ক্ষমতায় ফেরার পরপরই ছিল ৪১ শতাংশ।
এ বিষয়ে তার সমর্থন হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মাত্র ৩৫ শতাংশ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্প ভালো কাজ করছেন।
অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে দেশজুড়ে এক হাজার ৫৪৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপটির ত্রুটির সীমা প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট।

