ড্রোন মোকাবিলায় বিশেষ বাহিনী গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে নিজেদের বিমানঘাঁটি রক্ষায় নতুন একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করছে।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘাতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দুর্বলতা সামনে আসার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে বিমান বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তারা বলছেন, কম খরচে তৈরি হলেও অত্যন্ত কার্যকর ড্রোন ও নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র এখন বড় হুমকি। তাই সামরিক ঘাঁটি রক্ষায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য দরকার।
এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত কয়েকটি ঘাঁটিতে আলাদা বিমানঘাঁটি প্রতিরক্ষা ইউনিটও গঠন করবে। এসব ইউনিটে একত্র করা হবে বিভিন্ন সামরিক পেশার সদস্যদের। তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত, নজরদারি এবং প্রতিহত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
২০২৫ সালে ইউক্রেনের ‘অপারেশন স্পাইডারওয়েব’ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মার্কিন কর্মকর্তারা।
ওই অভিযানে দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার ভেতরের বিমানঘাঁটিতে রাখা কৌশলগত বোমারু বিমান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এরপরই পেন্টাগন মার্কিন সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে ভার্জিনিয়ার ল্যাংলি বিমান বাহিনী ঘাঁটির ওপর দিয়ে বারবার অজ্ঞাত ড্রোন উড়ে যাওয়ার ঘটনাও সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে ওহাইও, উটাহ ও ব্রিটেনের সামরিক ঘাঁটিতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে।
সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিমানঘাঁটির নিরাপত্তা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এসব হামলায় মাটিতে থাকা কয়েকটি বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড স্থাপনাও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়ে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এই চ্যালেঞ্জ আরও বেশি।
কেননা, জাপানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিগুলো এখন চীনের বাড়তে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও, সামরিক কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন সব বিমানঘাঁটি রক্ষার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা তাদের নেই।
নতুন বিমানঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার চেয়েছে বিমান বাহিনী।
তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এই সক্ষমতা পুরোপুরি চালু হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।
গত মে মাসে কংগ্রেসে বিমান বাহিনীর সচিব ট্রয় ই. মেইঙ্ক বলেছেন, সামরিক ঘাঁটি সুরক্ষিত রাখা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে নতুন এই বিশেষ বাহিনী কবে থেকে পুরোপুরি কাজ শুরু করবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সময়সূচি জানায়নি মার্কিন বিমান বাহিনী।
কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি এবং নতুন এই দায়িত্বকে বাহিনীর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে কিছুটা সময় লাগবে।
সূত্র: ডন




