বাইডেন-ওবামা কাউকেই পছন্দ করতেন না কিম, কিন্তু আমাকে করেন: ট্রাম্প

ট্রাম্প দাবি করেন তার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সম্পর্ক ভালো।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে আবারও সামনে আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন তার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সম্পর্ক ভালো।
ট্রাম্প বলেন, “তিনি বাইডেনকে পছন্দ করতেন না, ওবামাকেও পছন্দ করতেন না। কাউকেই পছন্দ করতেন না। কিন্তু আমাকে পছন্দ করেন।” তার ভাষ্য, কিমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নিরাপত্তার জন্যও ইতিবাচক।
এই বক্তব্যের মধ্যেই উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছেন, কিমের সঙ্গে যখন তার সম্পর্ক ভালো, তখন উত্তর কোরিয়াকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বড় সামরিক মহড়া চালানোর প্রয়োজনীয়তা কতটা।
এরই মধ্যে ওয়াশিংটনের নির্দেশে উলচি ফ্রিডম শিল্ড নামের বার্ষিক যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়া ১১ দিন থেকে কমিয়ে পাঁচ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। মহড়ার কিছু মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণও কমানো হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, কিমের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে এবং চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে আবার বৈঠকের সম্ভাবনা দেখছেন। ট্রাম্পের দাবি, কিম তার যোগাযোগের উদ্যোগের জবাবও দিয়েছেন।
তবে পিয়ংইয়ং থেকে পাওয়া বার্তা পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক নয়। কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও তার ভাইয়ের মধ্যে সাম্প্রতিক কোনো যোগাযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ কোরিয়ার কমানো সামরিক মহড়াকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার মতো বিষয় বলেও মনে করেননি।
ফলে ট্রাম্পের নতুন অবস্থানকে ঘিরে এশিয়ায় নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। একদিকে কিমের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটন উত্তেজনা কমানোর পথ খুঁজছে, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।
ট্রাম্পের এই নীতির মূল পরীক্ষা এখন একটাই—কিমের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কি সত্যিই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি কমিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তির দরজা খুলতে পারবে, নাকি এটি শুধু সাময়িক কূটনৈতিক উত্তেজনা কমানোর কৌশল হয়ে থাকবে?






