যুক্তরাষ্ট্রে গরমে ছটফট করছে প্রায় ৬ কোটি মানুষ

গরমে ছটফট করছে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ- রয়টার্স
জলবায়ু পরিবর্তনে গোটা বিশ্বের আবহাওয়া বিপর্যস্ত। এশিয়ায় কখনো ঘন বৃষ্টি, কখনো ঝড়। কখনো উচ্চ তাপমাত্রা, কখনো স্বল্প বৃষ্টি। বিশ্ব জলবায়ুর এ বেতাল দশায় সবচেয়ে বেশি বেহাল হয়ে পড়েছে ইউরোপ। রীতিমতো সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় পুড়ছে পুরো মহাদেশ। সঙ্গে রেকর্ড প্রাণহানিও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, এর সংখ্যা ১ হাজার ৩০০-এরও বেশি! শুধু জুনেই। শীতপ্রধান এ অঞ্চলকে ভুগিয়ে এবার হানা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে! অসহনীয় গরম! ৪২-৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিক তাপমাত্রার দ্বিগুণেরও বেশি। মার্কিন আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ভয়ংকর এ গরমে ছটফট করছে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ। সিবিএস নিউজ।
বিশেষ করে মন্টানা, ইউটাহ, ডেকোটা অঞ্চলের প্রায় সবকটি এলাকায়ই এখন রেকর্ড তাপমাত্রা। গতকাল এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। জানিয়েছে, ‘হিট ডোম’ বা স্থির উচ্চচাপজনিত তাপগম্বুজের প্রভাবে (এলাকায় তাপমাত্রা দিনের পর দিন বিপজ্জনকভাবে বাড়তে থাকে এবং তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হয়) দুর্বিষহ হয়ে উঠছে বাসিন্দাদের (প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ) জনজীবন।
চলতি সপ্তাহে আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা রাজ্যের বিলিংস শহরে তাপমাত্রা প্রায় ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস! দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের কিছু মরুভূমি এলাকায়ও বেড়েছে গরম। আশঙ্কা করা হচ্ছে, চলমান এ তাপপ্রবাহ কয়েক দিনের মধ্যেই ছুটবে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যের দিকে। সিবিএস নিউজের আবহাওয়াবিদ নিক্কি নোলান সতর্ক করেছেন, ‘বছরের এ সময়ে গড়ে ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি বাড়বে তাপমাত্রা। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নতুন নতুন রেকর্ড গড়বে আরও অনেক রাজ্য।’
রবিবারই তাপমাত্রা বৃদ্ধির আগের সব রেকর্ড ইউটাহর সল্টলেক সিটির। আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ডে প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০২২ সালে সর্বশেষ রেকর্ড ছিল প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র গরমের কারণে অধিকাংশ অঞ্চলেই সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন। একই সঙ্গে আরও তীব্র তাপপ্রবাহের জন্যও প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির আবহাওয়াবিদরা। পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, বাড়তে বাড়তে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে চলমান এ তাপপ্রবাহ।
রাজ্যে রাজ্যে দাবানল ও বজ্রঝড়
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো রাজ্যে রবিবার তাপপ্রবাহ থেকে দুটি দাবানলের সূত্রপাত হয়। এতে পুড়ে যায় কয়েকশ বাড়ি-ঘর। আবার ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যান্টেলপ ভ্যালিতে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় তিন হাজার একর জমি। বৃহস্পতিবার নাগাদ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া এবং অ্যারিজোনা রাজ্য জলবায়ু আরও বিগড়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ নোলান।




