Agamir Somoy E-Paper
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
রাস্তাঘাট পরিষ্কার করেন রায়হান

রাস্তাঘাট পরিষ্কার করেন রায়হান

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় বিদেশ

লেবার পার্টির শতবর্ষী আমলনামা

বৃটেনের ‘শ্রমিক দল’ কি এখনও শ্রমিকের?

ইরফান রহমান
agamir somoy
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ২১:৩৫
বৃটেনের ‘শ্রমিক দল’ কি এখনও শ্রমিকের?

লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কিয়ার হার্ডি- সংগৃহীত

লন্ডন থেকে ব্রিটিশ রাজনীতির খবর যারা নিয়মিত অনুসরণ করেন, তাদের কাছে ‘লেবার পার্টি’ নামটি পরিচিত। কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ পাঠকের কাছে প্রশ্ন আসতে পারে : লেবার পার্টি আসলে কী? নামের মধ্যেই যেহেতু ‘লেবার’ বা শ্রম রয়েছে, তবে কি এটি শুধু শ্রমিকদের দল?

উত্তরটি একই সঙ্গে সহজ এবং জটিল। সহজ উত্তর হলো, ‘হ্যাঁ’, লেবার পার্টির জন্মই হয়েছিল শ্রমিকদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের জন্য। কিন্তু জটিল উত্তর হলো, এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ব্রিটেন শাসনের অভিজ্ঞতায় দলটির চরিত্র বদলেছে। কখনো এটি ট্রেড ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েছে, কখনো ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মধ্যপন্থী হয়েছে। আজকের লেবার পার্টিকে বুঝতে হলে ফিরে তাকাতে হবে তার জন্মের ইতিহাসের দিকে।

শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর হিসেবে জন্ম

উনিশ শতকের শেষ ভাগের ব্রিটেন ছিল শিল্পবিপ্লবের শক্তিশালী কেন্দ্র। কয়লা খনি, ইস্পাত কারখানা, বস্ত্রশিল্প ও জাহাজ নির্মাণে লাখো মানুষ কাজ করতেন। কিন্তু শিল্পের এই অগ্রগতির পেছনে থাকা শ্রমিকদের জীবন ছিল কঠিন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কম মজুরি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। তখন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মূলত কনজারভেটিভ ও লিবারেল পার্টির আধিপত্য। শ্রমিকরা বুঝতে শুরু করেন, নিজেদের দাবি বাস্তবায়ন করতে হলে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োজন। এই প্রয়োজন থেকেই ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন, সমাজতান্ত্রিক সংগঠন ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের উদ্যোগে ১৯০০ সালে গঠিত হয় লেবার রিপ্রেজেন্টেশন কমিটি। ১৯০৬ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টি নামে পরিচিত হয়।

দলের প্রথম দিকের লক্ষ্য ছিল খুব স্পষ্ট–শ্রমিকদের সংসদে কণ্ঠ দেওয়া। লেবারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা কিয়ার হার্ডির বিশ্বাস ছিল, শ্রমিক শ্রেণিকে শুধু প্রতিবাদকারী শক্তি নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার অংশীদার হতে হবে।

হ্যারল্ড উইলসনকে ধরা হয় লেবার পার্টির সবচেয়ে সফল নেতা হিসেবে- সংগৃহীত
সংসদে প্রবেশ থেকে ক্ষমতার দরজায়

শুরুতে লেবার ছিল ছোট দল। কিন্তু ব্রিটিশ সমাজে শিল্পশ্রমিকদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলটির প্রভাবও বাড়তে থাকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেনে সামাজিক পরিবর্তন আসে। শ্রমিকদের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ে। ১৯২৪ সালে লেবার প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে। যদিও রামসে ম্যাকডোনাল্ডের নেতৃত্বাধীন সেই সরকার মাত্র কয়েক মাস স্থায়ী হয়েছিল, তবু এটি ছিল ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কারণ প্রথমবারের মতো শ্রমিকভিত্তিক একটি দল ব্রিটেন শাসনের দায়িত্ব নেয়।

এরপর ১৯২৯ সালে লেবার আবার ক্ষমতায় আসে। তবে অর্থনৈতিক মহামন্দা ও রাজনৈতিক সংকটের কারণে সরকার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। লেবারের প্রকৃত রূপান্তর ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর।

১৯৪৫ : যে বিজয় বদলে দেয় ব্রিটেনকে

১৯৪৫ সালের নির্বাচন ব্রিটিশ ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জয়ের পর অনেকেই আশা করেছিলেন উইনস্টন চার্চিলের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু ভোটাররা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন। ক্লেমেন্ট অ্যাটলির নেতৃত্বে লেবার বিপুল জয় পায়।

এই সরকার বিশ্বাস করত, যুদ্ধের পর ব্রিটেনকে শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, সামাজিকভাবেও পুনর্গঠন করতে হবে। এই সময়ের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো জাতীয় স্বাস্থ্য সার্ভিস (এনএইচএস) প্রতিষ্ঠা। ১৯৪৮ সালে চালু হওয়া এনএইচএস-এর মূল ধারণা ছিল মানুষের আয় যা-ই হোক, প্রয়োজনের সময় চিকিৎসা পাওয়া নাগরিক অধিকার। আজও এনএইচএস ব্রিটিশ রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামাজিক অর্জনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। অ্যাটলি সরকার আরও যে পরিবর্তনগুলো আনে- সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ; কাউন্সিল হাউস নির্মাণ; গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিল্প রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া; শ্রমিক অধিকার শক্তিশালী করা। এই সময়েই ব্রিটেনে আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি হয়।

লেবার কি শুধু শ্রমিকের দল ছিল?

না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলটির সামনে একটি বড় প্রশ্ন আসে: শুধু ঐতিহ্যবাহী শিল্পশ্রমিকদের ওপর নির্ভর করে কি আধুনিক ব্রিটেনে ক্ষমতায় থাকা সম্ভব? ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ব্রিটেনের অর্থনীতি বদলাতে শুরু করে। শিল্প খাত সংকুচিত হয়, সেবা খাত বাড়তে থাকে। শ্রমিক শ্রেণির সংজ্ঞাও বদলাতে থাকে। একসময় যে শ্রমিক মানে ছিল কয়লা খনির কর্মী বা কারখানার শ্রমিক, পরে তার সঙ্গে যুক্ত হয় অফিসকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, পরিবহনকর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবী। লেবারকে তাই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।

থ্যাচার যুগ : যে সময় লেবারের ভিত্তি নড়ে যায়

১৯৭৯ সালে ‘লৌহমানবী’ মার্গারেট থ্যাচারের নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টি ক্ষমতায় আসে। থ্যাচার সরকার ব্রিটেনের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। তাদের নীতির মধ্যে ছিল- রাষ্ট্রীয় শিল্প বেসরকারিকরণ; ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষমতা সীমিত করা; বাজার অর্থনীতির ভূমিকা বাড়ানো; সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ। এই নীতিতে ব্রিটেনের কিছু অংশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলেও শিল্পাঞ্চলের অনেক মানুষ বড় ধাক্কা খায়। উত্তর ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের বহু খনি ও শিল্প এলাকা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। লেবারের নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যামসহ অনেক নেতা মনে করেন, এই সময়ের নীতিই অনেক শ্রমজীবী সম্প্রদায়কে পিছিয়ে দেয়।

তবে একই সময়ে লেবারও সংকটে পড়ে। কারণ ব্রিটিশ ভোটারদের একটি অংশ মনে করতে শুরু করে, দলটি অতিরিক্ত বামপন্থী। এই সংকট থেকেই আসে লেবারের পরবর্তী বড় পরিবর্তন : নিউ লেবার।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টি নেতা টনি ব্লেয়ার- সংগৃহীত

নিউ লেবার : জয়ের জন্য আদর্শে পরিবর্তন

১৯৮০-এর দশকে মার্গারেট থ্যাচারের কনজারভেটিভ সরকারের কাছে ধারাবাহিক পরাজয়ের পর লেবার পার্টির ভেতরে বড় ধরনের আত্মসমালোচনা শুরু হয়। দলটির নেতারা বুঝতে পারেন, শুধু ঐতিহ্যগত শ্রমিক ভোটের ওপর নির্ভর করে ব্রিটেনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় যাওয়া কঠিন। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রতীক ছিলেন টনি ব্লেয়ার। ১৯৯৪ সালে লেবার নেতা হওয়ার পর ব্লেয়ার দলের পুরোনো নীতির অনেক অংশ পুনর্বিবেচনা করেন। তার লক্ষ্য ছিল লেবারকে শুধু ট্রেড ইউনিয়ন ও শিল্পশ্রমিকদের দল নয়, বরং মধ্যবিত্ত, পেশাজীবী ও নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছেও গ্রহণযোগ্য করে তোলা। এই নতুন রাজনৈতিক ধারণাই পরিচিত হয় ‘নিউ লেবার’ নামে।

১৯৯৭ সালের নির্বাচনে ব্লেয়ারের নেতৃত্বে লেবার বিশাল জয় পায়। ১৮ বছর পর দলটি আবার ক্ষমতায় ফেরে। এটি ছিল লেবারের ইতিহাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক সাফল্য।

ব্লেয়ার সরকারের অর্জন

শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জন্য কী পরিবর্তন এসেছিল? সমালোচনা থাকলেও নিউ লেবার সরকারের কিছু বড় অর্জন রয়েছে।

১৯৯৮ সালে ব্লেয়ার সরকার ‘ন্যাশনাল মিনিমাম ওয়েজ (ন্যূনতম মজুরি) আইন’ প্রণয়ন করে। এর আগে অনেক কম বেতনের শ্রমিকের জন্য কোনো নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ছিল না। এই সিদ্ধান্তকে লেবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমনীতি হিসেবে দেখা হয়। সমর্থকদের মতে, এর ফলে লাখো নিম্ন আয়ের কর্মী সুরক্ষা পান।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ

১৯৯৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত লেবার সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের সরকারি বিনিয়োগ করে। নতুন স্কুল ভবন, হাসপাতাল উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবায় অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হয়।

শ্রম অধিকার ও সামাজিক নীতি

এই সময়ে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী আইন শক্তিশালী হয়; মাতৃত্বকালীন ও পারিবারিক ছুটির সুযোগ বাড়ে; নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য বিভিন্ন সহায়তা চালু করা হয়। তবে এখানেই আসে লেবারের সবচেয়ে বড় বিতর্ক। লেবার কি তখন শ্রমিকদের দল থেকে দূরে সরে গিয়েছিল?

লেবারের বামপন্থী অংশ ও অনেক ট্রেড ইউনিয়ন নেতার অভিযোগ ছিল, নিউ লেবার ধীরে ধীরে ঐতিহ্যগত শ্রমিক রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাদের যুক্তি ছিল, ব্লেয়ার সরকার ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং থ্যাচার যুগের কিছু অর্থনৈতিক কাঠামো পুরোপুরি ভাঙেনি। বিশেষ করে সরকারি পরিষেবায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো নিয়ে সমালোচনা হয়।

সমালোচকদের মতে, লেবার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নিজেদের এমনভাবে বদলে ফেলেছিল যে তারা শ্রমিক আন্দোলনের পুরোনো আদর্শের অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে।

তবে ব্লেয়ারের সমর্থকেরা বলেন, যদি লেবার ক্ষমতায় না ফিরত, তাহলে শ্রমিকদের জন্য বাস্তব পরিবর্তন আনার সুযোগও থাকত না। তাদের যুক্তি ছিল রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হলে শুধু আদর্শ নয়, বাস্তব অর্থনীতির সঙ্গেও সমন্বয় করতে হয়।

ইরাক যুদ্ধ : লেবারের জন্য বড় রাজনৈতিক ক্ষত


টনি ব্লেয়ার সরকারের সবচেয়ে বড় বিতর্কগুলোর একটি ছিল ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে ব্রিটেনের অংশগ্রহণ লেবারের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেক ঐতিহ্যগত লেবার সমর্থক মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত দলটির নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে। পরবর্তী সময়ে এটি ব্লেয়ারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হয়ে থাকে।

২০০৮ সালের আর্থিক সংকট ও লেবারের পতন

২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর ব্রিটিশ অর্থনীতিও বড় চাপের মুখে পড়ে।
গর্ডন ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার সংকট মোকাবিলায় ব্যাংক উদ্ধারসহ নানা পদক্ষেপ নেয়। তবে ভোটারদের একটি অংশ মনে করে, অর্থনৈতিক সমস্যার দায় লেবার সরকারের ওপরও পড়ে। ফলে ২০১০ সালের নির্বাচনে লেবার ক্ষমতা হারায়। এরপর কনজারভেটিভরা দীর্ঘ সময় ব্রিটেন শাসন করে।

শ্রমজীবী ভোটারদের সঙ্গে লেবারের দূরত্ব

২০১০ সালের পর লেবারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ঐতিহ্যগত শ্রমিক ভোটারদের আস্থা ফেরানো। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের অনেক শিল্প এলাকায়, যেখানে একসময় লেবারের শক্ত ঘাঁটি ছিল, সেখানে দলটির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে। অনেক শ্রমজীবী ভোটার মনে করতে থাকেন, লন্ডনকেন্দ্রিক রাজনীতি তাদের বাস্তব সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এই অসন্তোষের বড় প্রকাশ দেখা যায় ২০১৯ সালের নির্বাচনে। তখন জেরেমি করবিনের নেতৃত্বাধীন লেবার বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে।

করবিনের লেবার তুলনামূলকভাবে বেশি বামপন্থী অবস্থান নেয়: রেল ও অন্যান্য খাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানা; বেশি সরকারি বিনিয়োগ; শক্তিশালী শ্রম অধিকার। কিন্তু সমালোচকেরা মনে করেন, তার নেতৃত্বে দলটি মধ্যপন্থী ভোটারদের আকর্ষণ করতে পারেনি।
সদ্য বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার- সংগৃহীতকিয়ার স্টারমার : আবার মাঝপথের রাজনীতি

২০২০ সালে কিয়ার স্টারমার লেবার নেতা হন। তিনি চেষ্টা করেন দলকে আবার নির্বাচনীভাবে গ্রহণযোগ্য করতে। স্টারমারের কৌশল ছিল ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করা; অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়া; শ্রমিক অধিকার ও জনসেবার প্রতিশ্রুতি রাখা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার বড় জয় পেয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসে। স্টারমার হন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। তবে ক্ষমতায় আসার পর স্টারমার সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা।

আজকের প্রশ্ন- লেবার কি এখনও শ্রমিকের দল? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে আপনি ‘শ্রমিকের দল’ বলতে কী বোঝেন তার ওপর। যদি বোঝানো হয় একটি দল, যা শ্রমিকদের অধিকার, মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার পক্ষে কাজ করে, তাহলে লেবারের ইতিহাসে বড় অর্জন রয়েছে। এনএইচএস, ন্যূনতম মজুরি এবং শ্রম অধিকার– এসব লেবারের গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার।

কিন্তু যদি বোঝানো হয় একটি দল, যার প্রতিটি নীতি সরাসরি ট্রেড ইউনিয়ন ও শিল্পশ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী পরিচালিত হবে, তাহলে লেবার অনেক আগেই সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। আধুনিক লেবার নিজেকে শুধু শ্রমিকদের দল নয়, বরং ‘কর্মজীবী মানুষের দল’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়। এদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী, ছোট ব্যবসার কর্মী, সেবা খাতের শ্রমিক, নার্স, তরুণ পেশাজীবীরা।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম- রয়টার্স

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম : পুরোনো প্রশ্নের নতুন উত্তর?

লেবারের নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি আগামী সোমবার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, আবার সেই পুরোনো প্রশ্নটিই সামনে এনেছেন। দলটি কি তার ঐতিহ্যগত শিকড়ে ফিরবে? বার্নহ্যামের রাজনৈতিক পরিচয় মূলত উত্তর ইংল্যান্ডের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে তিনি আঞ্চলিক ক্ষমতা বৃদ্ধি, স্থানীয় পরিবহন ও শিল্প পুনরুজ্জীবনের ওপর জোর দিয়েছেন।

গত শুক্রবার নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বলেছেন, ব্রিটেনের গত চার দশকের অর্থনৈতিক নীতি অনেক মানুষ ও অঞ্চলকে পিছিয়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমাদের এমন একটি দেশ গড়তে হবে, যেখানে সব মানুষ ও সব অঞ্চল সুযোগ পাবে।’

তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, তিনি ব্যবসাবান্ধব থাকবেন। এখানেই আধুনিক লেবারের মূল দ্বন্দ্ব : একদিকে শ্রমজীবীদের জন্য বেশি সুরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় ভূমিকা; অন্যদিকে বিনিয়োগ, ব্যবসা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

লেবারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে একটি প্রশ্নের ওপর

এক শতাব্দীর বেশি সময় আগে শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর হিসেবে জন্ম নেওয়া লেবার পার্টি আজ ব্রিটেনের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল। দীর্ঘ এই যাত্রায় দলটি অনেকবার বদলেছে। কখনও শ্রমিক আন্দোলনের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিনিধি হয়েছে, আবার কখনও বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে।

তবে লেবারের রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্রশ্নটি এখনও একই আছে, ‘ব্রিটেনের সাধারণ কর্মজীবী মানুষ কি মনে করছেন, এই দল তাদের জীবনের বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারছে?’

অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নেতৃত্বে সেই পুরোনো প্রশ্নেরই নতুন পরীক্ষা শুরু হয়েছে। লেবারের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সাধারণ মানুষের আশা ও প্রত্যাশাকে রাজনৈতিক ভাষা দেওয়া। কিন্তু সেই আশাই এখন দলটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাস্তবতা হলো, লেবার পার্টি আজ দুটি উত্তরাধিকার বহন করছে। একদিকে শ্রমিক আন্দোলন ও ট্রেড ইউনিয়নের দীর্ঘ ইতিহাস, অন্যদিকে আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়ে দলটি কতটা কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে ব্রিটিশ রাজনীতিতে লেবারের অবস্থান। সময়ই বলে দেবে, এই একুশ শতকে লেবার তার ঐতিহাসিক শিকড়ের সঙ্গে নতুন বাস্তবতার কতটা সফল সমন্বয় করতে পারে।

লেখক : যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি

যুক্তরাজ্যলেবার পার্টিঅ্যান্ডি বার্নহ্যাম
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ১৯ জুলাই ২০২৬
    রাত ৩:০০ টা
    ফ্রান্স
    ০
    ইংল্যান্ড
    ০
    ২০ জুলাই ২০২৬
    রাত ১:০০ টা
    আর্জেন্টিনা
    ০
    স্পেন
    ০
    advertisement
    advertisement
    ঢাবিতে শিবিরের কর্মসূচিতে ব্যারিস্টার আরমানের মোবাইল চুরি

    ঢাবিতে শিবিরের কর্মসূচিতে ব্যারিস্টার আরমানের মোবাইল চুরি

    ১৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০৪

    advertiseadvertise