ইমরান খানের জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছেলেরা

ছবি: রয়টার্স
কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার দুই ছেলে। তবে পরিবারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার সিএনএন-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান ঈসা খান। তাদের অভিযোগ, গত সাত মাস ধরে পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না ইমরান খানকে। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সরকার। সরকারের দাবি, কারাবন্দী ইমরানের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ইমরান খানের গ্রেপ্তারের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সিএনএনকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে লন্ডনপ্রবাসী দুই ছেলে জানিয়েছেন, বাবার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। কাসিমের ভাষ্য, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো রির্পোট দেখানো হয় না তাদের। তাই বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে তাদের আশঙ্কা বাড়ছে।
দুই ভাইয়ের দাবি, পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ছেন তারা। কখনো ভিসা নিয়ে জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে, আবার কখনো অন্য কোনো কারণ দেখিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা করা সম্ভব নয় জানানো হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, কাসিম ও সুলাইমানের কাছে রয়েছে প্রবাসী পাকিস্তানিদের জাতীয় পরিচয়পত্র। সে ক্ষেত্রে তাদের ভিসার প্রয়োজন নেই। মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে প্রশাসনিক বিষয়কে। যদিও দুই ভাইয়ের বক্তব্য, তাদের পরিচয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং তা নবায়ন করা হয়নি।
এদিকে পাকিস্তান সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইমরান খানকে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়নি। গত ২১ মার্চ তিনি ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলেও দাবি সরকারের। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে রাখা হয়েছে সাত কক্ষের একটি বিশেষ কম্পাউন্ডে। তিনি নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ ও ফলোআপ সেবা পাচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল।
চলতি সপ্তাহে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আহ্বান জানিয়েছে, ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার নিঃশর্ত অধিকার যেন তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার হয়। একই সঙ্গে তাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং বেআইনি নির্জন কারাবাস বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। ২০২৩ সালে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাগারে যান। ইমরান ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তার বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে এসব মামলা।






