ইমরান খানকে হাসপাতালে পাঠানোর আদেশ চ্যালেঞ্জ করল পাকিস্তান সরকার

ইমরান খান- রয়টার্স
কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশ মানতে নারাজ সরকার। এক দিনের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছে ইসলামাবাদ। এ ঘটনায় ইমরানের চিকিৎসা ও কারাগারে তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা।
আদালতে বুধবার দাখিল করা এক আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের মঙ্গলবারের আদেশ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
ওই আদেশে সরকারকে দুই দিনের মধ্যে ইমরান খানকে রাজধানী ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে তাকে দেখার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়।
কিন্তু পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বলেছেন, এই আদেশ আইনের সীমার মধ্যে নেই। সরকারের আবেদনে বলা হয়েছে, এমন একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দণ্ডিত একজন বন্দিকে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তার অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো কোনো শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ নেই।
সরকার আরও বলেছে, এই আদেশ বহাল থাকলে একই ধরনের সুবিধা চেয়ে অন্য বন্দিরাও আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন, যা দেশের পুরো ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির কারাগারে বন্দি। একাধিক মামলায় দণ্ডিত ইমরান এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। ২০২২ সালে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের পর প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়।
এদিকে ইমরানের দুই ছেলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে বারবার উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, কারাগারে থাকার সময় তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে এবং তা ‘অবিলম্বে, সম্পূর্ণভাবে ও কোনো বিলম্ব ছাড়াই’ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।







