এবার কিউবায় মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী

পিট হেগসেথ— রয়টার্স
মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার কিউবার গুয়ানতানামো উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে পৌঁছেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাভানার ওপর চাপ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে কমিউনিস্টশাসিত দ্বীপটিতে কোনো জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার এটিই সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের সফর।
হেগসেথের এই সফর এমন সময় হচ্ছে, যখন সপ্তাহ দুই আগে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান গুয়ানতানামো নৌঘাঁটি সফর করেন এবং ঘাঁটির সীমান্ত এলাকায় কিউবার এক জ্যেষ্ঠ জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এ ছাড়া মে মাসের শুরুতে বিরল এক সফরে হাভানায় গিয়েছিলেন সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফও।
গুয়ানতানামো উপসাগরে পৌঁছানোর পর হেগসেথ কোনো বক্তব্য দেননি। সেখানে তিনি অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রায়ই কিউবায় রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার বিষয়টিকে তার দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউবা স্টাডিজ কর্মসূচির প্রধান মাইকেল বুস্তামান্তের মতে, এই সফর কিউবার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের বার্তা হতে পারে। কারণ কিউবায় এখন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তিনি বলেছেন, ‘সম্ভবত হেগসেথের সফরের উদ্দেশ্য হলো আবারও এই বার্তা দেওয়া যে আলোচনায় না এলে সামরিক বিকল্প ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে, যদিও এমন কোনো অভিযানের জটিলতা নিয়ে পর্যবেক্ষকরা ক্রমেই সতর্ক করছেন।’
১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে কিউবা।
ফ্লোরিডার কট্টরপন্থি কিউবান-আমেরিকানদের কাছ থেকে ট্রাম্প শক্ত সমর্থন পেয়ে থাকেন। তারা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কিউবায় সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ধীরে ধীরে হাভানার ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে তার প্রশাসনও।
গত ২০ মে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক কিউবান প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে মায়ামিভিত্তিক নির্বাসিতদের পরিচালিত একটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় চারটি হত্যার অভিযোগ আনে।
এই অভিযোগকে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব প্রতিষ্ঠার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার সাম্প্রতিক সময়ে উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


