পাল্টা হামলায় ভয়ংকর ইরান
- যুক্তরাষ্ট্রের তিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের
- এই প্রথম মিসরের কোনো অবকাঠামোতে সরাসরি সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু হলো

সংগৃহীত ছবি
যুদ্ধ বন্ধের পাঁচ দিনের মাথায় আবার রণ-উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। চলতি মাসের ১১ থেকে ২৪ তারিখ প্রতিরাতেই ইরানে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে লণ্ডভণ্ড করে দেয় ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র। দিন-কয়েক বিরতির পর গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বন্দর আব্বাস, কেশম, বুশেহরসহ অন্যান্য শহরও কেঁপে ওঠে মার্কিন বোমায়। পাল্টা হামলায় আগের তুলনায় আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে ইরানও। এক দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের তিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি তুলেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে জর্ডান ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা করেছে ইরানের। প্রথমবারের মতো মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় গ্যাসবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালায় ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত বুধবার রাতে আইআরজিসির ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে মার্কিন বাহিনী। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক কমান্ড কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা কেন্দ্র।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গতকাল জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের শহরের ভেতরে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে এক দম্পতি এবং তাদের সন্তান নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তাৎক্ষণিক উত্তর দিয়েছে ইরানও। দেশটির গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায় আইআরজিসি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস এবং আরও তিনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। ইরান ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেশম দ্বীপে হামলার জবাবে আল-আজরাক বিমানঘাঁটির বিমান পার্কিং এলাকা ও একটি রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এবং যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীও নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরান জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার সময় কেশম দ্বীপের একটি বাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে দুজন আহত হন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই আইআরজিসির এই বিবৃতিটি আসে।
পাল্টা হামলায় বুধবার মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় নোঙর করা গ্যাসবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। সেখানে দুটি জাহাজে অস্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করেছে কায়রো। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, জরুরি ও দ্রুত সাড়াদান কর্মসূচির আওতায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি বলেও উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে এই প্রথম মিসরের কোনো অবকাঠামো সরাসরি সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু হলো। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
যেসব অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা: ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গতকাল জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। । বুশেহর প্রদেশে অবস্থিত ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে। কুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের অন্তত সাতটি স্থানে হয়েছে হামলা। এ শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছে তাসনিম। এ ছাড়া দেশটির বন্দর আব্বাসেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বন্ধই থাকবে হরমুজ: যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি’ ও ‘হস্তক্ষেপ’ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালি। টেলিগ্রামে একটি বিবৃতিতে গতকাল এ ঘোষণা দেয় আইআরজিসি। যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করা দেশগুলো তাদের আচরণ পরিবর্তন না করলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হবে বলেও হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি।






