কঠিন পরীক্ষার মুহূর্তে এসে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্য

ছবি: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক সই হলেও যুদ্ধবিরতি চুক্তি কতটুকু কার্যকর হবে এ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চিয়তা। ইসরায়েল ও লেবানন ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় একাধিকবার অস্ত্রবিরতিতে রাজি হলেও হামলা বন্ধ করেনি। এমনকি সবশেষ হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির কথা বলার পরেও ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।
এরই মধ্যে শুক্রবার নির্ধারিত সুইজারল্যান্ডের চুক্তি আলোচনা ভেস্তে গেছে। যদিও পরে ইরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, লেবাননের ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এখনো যুদ্ধবিরতি স্বীকার করেনি।
এমন বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান, আরব দেশসমূহ এবং মধ্যস্থতাকারীদের সবাই সত্যিই এক কঠিন পরীক্ষার মুহূর্তে এসে দাঁড়িয়েছেন বলে মনে করেন আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বৈরুতের বিশিষ্ট গবেষক রামি খৌরি। তার মত, যুদ্ধ বন্ধে প্রত্যেককেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে আলজাজিরাকে খৌরি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নতুন দিকে মোড় নিতে পারে। এটি একটি নির্ণায়ক মুহূর্তে এসে দাড়িয়েছে।
তার মত, যুদ্ধবিরতির চুক্তি পালনে ব্যর্থ হওয়ার ইতিহাস যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রয়েছে, কিন্তু ইরানের সম্পৃক্ততার কারণে এবার তারা আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।
খৌরি বলেছেন, এখন পার্থক্য হলো ইরান সরাসরি লেবানন ও হিজবুল্লাহকে সহায়তায় জড়িত এবং এটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের ওপর এক নতুন ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
তার ভাষ্য, এই মুহূর্তে এটাই একমাত্র বিবেচ্য বিষয়–আমেরিকানরা কি ইসরায়েলিদের সামরিক বাড়াবাড়ি এবং হত্যাযজ্ঞকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? যদি তারা না পারে, তবে ইরানীরা এর জবাব দেবে। যার পূর্ণ সক্ষমতা তেহরান আছে।
আর এরকম হলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ভয়াবহ রুপ নিতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
সূত্র : আল জাজিরা





