গাজার ১৫ বন্দিকে মুক্তি, হাড্ডিসার শরীরে ইসরায়েলি আঘাতের চিহ্ন

ইসরায়েলি বাহিনীর হাত থেকে মুক্তির পর কন্যাকে জড়িয়ে ধরেন এক ফিলিস্তিনি পিতা। ছবি : আনাদুলো
ইসরায়েল রবিবার গাজার দক্ষিণ কেরেম শালোম ক্রসিং দিয়ে ১৫ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে, যাদের অধিকাংশের শরীরে আঘাতের ক্ষতচিহ্ন আছে। রুগ্ণ ও হাড্ডিসার অবস্থায় তাদের গাজায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
গাজার মিডিয়া অফিসের বরাতে তুর্কিভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় গণহত্যা শুরু করে ইসরায়েল। সামরিক অভিযানের সময় দুই বছর ধরে গাজার হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী (আইডিএফ)। তার থেকে এই ১৫ জনকে মুক্তি দিল আইডিএফ।
বন্দিদের নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থা সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির তত্ত্বাবধানে ১৫ বন্দিকে কেরেম শালোম ক্রসিং দিয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে তাদের দেইর আল-বালাহতে অবস্থিত আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো স্পষ্ট করেছে, আটক রাখা স্থানগুলোতে বন্দিদের জন্য ন্যূনতম মানবিক সুবিধা ছিল না। তারা ইসরায়েলি বাহিনীর নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসার অবহেলার শিকার হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মুক্তি পাওয়া বন্দিদের অত্যন্ত রুগ্ণ ও ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। কারও কারও শরীরে আঘাতের চিহ্নও আছে।
ফিলিস্তিনি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে ৯০
নারী, ৩৫০ শিশুসহ ৯ হাজার ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি আটক রয়েছে।
গত বছর ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে। যদিও প্রথম থেকেই ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে উপত্যকাটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। তিন দফার যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে এর মধ্যেই ৮১১ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ সময়ে আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি।



