হরমুজ রক্ষায় মিত্রদের সাহায্য চাইলেন ট্রাম্প, কী বলছে তারা?

হরমুজ প্রণালিতে একটি এলএনজিবাহী জাহাজ
ইরান যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের কমপক্ষে ১২টি দেশ থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অতি দ্রুত ইরাক ছাড়তে বলা হয়েছে।
এরমধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে সহযোগী দেশগুলোকে আবারো আহবান জানিয়েছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্য ও অন্যদেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।
এনবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে তিনি প্রস্তুত নন, বরং তিনি ইরানের খারগ দ্বীপে আরও হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি তেহরানের শত্রুদের জন্য বন্ধ থাকবে।
ট্রাম্পের আহ্বানের বিষয়ে টোকিও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে জাপানের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বুধবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র সফরে এই বিষয়টি আলোচনায় উঠতে পারে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আমরা বর্তমানে আমাদের মিত্র এবং অংশীদারদের সঙ্গে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছি।
চীনকেও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র সিএনএনকে বলেছেন, চীন অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
এই মুখপাত্র বেইজিং ট্রাম্পের অনুরোধ গ্রহণ করবে কিনা সে বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে তিনি বলেছেন, স্থিতিশীল এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সকল পক্ষের, তিনি আরও বলেছেন, চীন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।
ফরাসি সরকারও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কিন্তু শনিবার ট্রাম্পের আহ্বানের কয়েক ঘণ্টা পরে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। এতে বলা হয়, বিমানবাহী রণতরী পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে। এটি অন্য কোথাও যাচ্ছে না। এই পদক্ষেপ আত্মরক্ষামূলক।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়াও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: বিবিসি

