জাতিসংঘ
খাদ্যসংকটে আরব ও মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিমপ্রধান দেশে বিরাজ করছে তীব্র খাদ্যসংকট। এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত হাঙ্গার হটস্পটস শীর্ষক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এই আশঙ্কার কথা।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও সুদানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের আশঙ্কা, এসব অঞ্চলে অনাহার ও অনাহারজনিত মৃত্যুর হার মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে।
বিশ্ব জুড়ে এই তীব্র খাদ্যসংকটের পেছনে মূল কারণ হিসেবে যুদ্ধ-সংঘাত, অর্থনৈতিক ধাক্কা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিবেদনের মূল তথ্যগুলো তুলে ধরেন কর্মকর্তারা।
“এই সংকটগুলো আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিও এড়ানো সম্ভব। কিন্তু কাজ করার সুযোগের সময় দিন দিন ফুরিয়ে আসছে।
ডব্লিউএফপির খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বিশ্লেষণ শাখার পরিচালক জঁ-মার্টিন বাউয়ার বলেছেন, খাদ্যসংকটের প্রধান কারণ হলো যুদ্ধ ও সহিংসতা। এই প্রতিবেদনে চিহ্নিত ১৩টি হটস্পটের মধ্যে ১২টির ক্ষেত্রেই মূল কারণ এটি।
‘সবচেয়ে উদ্বেগের হলো, প্রতিটি এলাকাই সংঘাত ও সহিংসতায় জর্জরিত। সংঘাত মানুষের জীবিকা ধ্বংস করে, বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য করে, বাজার ব্যবস্থা ভেঙে দেয় এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ বন্ধ করে দেয়’, বলছিলেন জঁ-মার্টিন বাউয়ার।
বছরে দুবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকাকে ভাগ করা হয়। বাউয়ার জানালেন, এবারই প্রথম লেবাননকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেখানে বিপুল মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সেখানে খাদ্যপণ্যের দামও আকাশচুম্বী।
আরব নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাউয়ার বলেছেন, বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। এমন একসময়ে এটি ঘটছে যখন স্থানীয় বাজারগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও সামষ্টিক অর্থনীতিতেও চলছে অস্থিরতা।
জাতিসংঘের কর্ম তৎপরতার কথা উল্লেখ করে বাউয়ার বলেছেন, ‘সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ থাকলে আমরা ডব্লিউএফপি বা এফএওর মাধ্যমে লেবাননের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দিতে সক্ষম হব। গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে ঝুঁকি অনেক বেড়েছে।’
প্রতিবেদনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো সুদান, দক্ষিণ সুদান, গাজা ও সোমালিয়া— এই চার হটস্পটে চলতি বছরেই দুর্ভিক্ষের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজার খাদ্য পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হলেও সেখানকার সার্বিক অবস্থা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বাউয়ার।
ডব্লিউএফপি ও এফএওর পরিচালক সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকটগুলো আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিও এড়ানো সম্ভব। কিন্তু কাজ করার সুযোগের সময় দিন দিন ফুরিয়ে আসছে।
প্রতিবেদনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো সুদান, দক্ষিণ সুদান, গাজা ও সোমালিয়া— এই চার হটস্পটে চলতি বছরেই দুর্ভিক্ষের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
শাখাটির জরুরি অবস্থা এবং সহনশীলতাবিষয়ক পরিচালক রেইন পলসেন জানালেন, তাদের সংস্থা ও অংশীদারদের কাজ করার সক্ষমতা এখন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
খাদ্য নিরাপত্তা খাতের জন্য মানবিক সহায়তার তহবিল আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ২০২৫ সালে এই খাতের তহবিলের পরিমাণ এতটাই নিচে নেমে গেছে, যা সর্বশেষ ২০১৬ ও ২০১৭ সালের দিকে দেখা গিয়েছিল, যোগ করেন রেইন পলসেন।
অথচ সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে তীব্র খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানালেন পলসেন।
তহবিল সংকটের কারণে তাদের অত্যন্ত কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের মাঠপর্যায়ের মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ কাজগুলো কমিয়ে দিতে হচ্ছে। এর ফলে সঠিক তথ্যের অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার্তদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ছে।’
সূত্র : আরব নিউজ





