Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
সবুজ স্বপ্ন বুনছেন শাকির
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় মধ্যপ্রাচ্য

ধ্বংসস্তূপের গাজায় ছোট এক চিড়িয়াখানা, যুদ্ধের ক্ষত প্রাণীদের চোখেও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
agamir somoy
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০১
ধ্বংসস্তূপের গাজায় ছোট এক চিড়িয়াখানা, যুদ্ধের ক্ষত প্রাণীদের চোখেও

প্রাণীগুলোকে কোনওভাবে বাঁচিয়ে রাখতে এখন হিমায়িত মাংস খাওয়ানো হচ্ছে।

খাঁচার সামনে শিশুরা ভিড় করছে, কিন্তু সিংহটির যেন তাতে কোনও আগ্রহ নেই। মাথা তুলতেও তার কষ্ট। পাশের ঘেরে চুপচাপ বসে কয়েকটি শিম্পাঞ্জি। একসময় দর্শকদের কোলাহলে যে প্রাণীরা সাড়া দিত, প্রায় তিন বছরের যুদ্ধ, ক্ষুধা আর একের পর এক বাস্তুচ্যুতি যেন তাদেরও নিস্তেজ করে দিয়েছে। অথচ একটু দূরেই একটি তোতা এসে বসছে শিশুর কাঁধে, ছোট বানরের গায়ে হাত বুলিয়ে হাসছে কেউ। চারপাশে ধ্বংসস্তূপ আর তাঁবুর শহর, তার মাঝখানে এই সামান্য হাসিটুকুই এখন গাজার নুসেইরাতের ছোট্ট চিড়িয়াখানার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

মঙ্গলবার গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরের কাছে চিড়িয়াখানাটির বর্তমান অবস্থার যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে যুদ্ধের আরও এক নীরব শিকার হয়ে উঠেছে সেখানকার প্রাণীরা। খাবার, ওষুধ ও টিকার তীব্র সংকটে অনেক প্রাণী অপুষ্ট ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। কোনওরকমে তাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন চিড়িয়াখানার মালিক মাহমুদ গোমা ও তার সহযোগীরা।

রাফাহ থেকে শুরু হয়েছিল পালানোর পথ

মাহমুদের চিড়িয়াখানা আগে ছিল দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে। ২০২৪ সালে ইসরায়েলি বাহিনী রাফাহর বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করলে তাকেও এলাকা ছাড়তে হয়। কিন্তু নিজের প্রাণ বাঁচানোর পাশাপাশি তার সামনে তখন আরেক প্রশ্ন, খাঁচাবন্দি প্রাণীগুলোকে রেখে যাবেন কোথায়? যতগুলোকে সম্ভব সঙ্গে নিয়ে এক শহর থেকে আরেক শহরে ঘুরেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের শুরুতে মধ্য গাজার নুসেইরাতে জায়গা পান এবং সেখানে আবার চিড়িয়াখানাটি চালু করেন। তার উদ্দেশ্য শুধু প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখা নয়; যুদ্ধের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য অন্তত কিছুক্ষণের আনন্দের জায়গা তৈরি করা।

মাহমুদের কথায়, যুদ্ধের শুরুতে সবাই যখন নিজেকে বাঁচানোর পথ খুঁজছিলেন, তিনি তখন নিজের চেয়েও বেশি ভাবছিলেন প্রাণীগুলোকে কীভাবে বাঁচানো যায়। যুদ্ধের আগে গাজায় কয়েকটি ছোট চিড়িয়াখানা ছিল। সিংহ, ঈগলসহ নানা বন্য ও বিদেশি প্রাণী রাখা হতো সেগুলোতে। কিন্তু যেখানে মানুষের জন্যই পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় কঠিন, সেখানে বড় বন্য প্রাণীর জন্য নিয়মিত উপযুক্ত খাবার সংগ্রহ এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

মাংস আছে, কিন্তু সেটিও উপযুক্ত নয়

প্রাণীগুলোকে কোনওভাবে বাঁচিয়ে রাখতে এখন হিমায়িত মাংস খাওয়ানো হচ্ছে। পশুচিকিৎসক নিদাল ফাদেল বলেছেন, এটিকে সমাধান ভাবার সুযোগ নেই। তার মতে, বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে এ ধরনের খাবারের বড় পার্থক্য রয়েছে; প্রকৃতিতে মাংসাশী প্রাণী তাজা শিকার খায়। দীর্ঘদিন অনুপযুক্ত খাবারে তাদের পুষ্টিহীনতা ও শারীরিক দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে।

খাবারের পাশাপাশি টিকা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবও ভয়াবহ। সেই সংকটের ছাপ সবচেয়ে স্পষ্ট সিংহটির শরীরে, দর্শকের দিকে তাকানোর শক্তিটুকুও যেন তার নেই। শিম্পাঞ্জিগুলোও নিজেদের ঘেরে প্রায় নিশ্চল হয়ে বসে থাকে।

ফিরে গিয়ে মিলেছিল শুধু হাড়

রাফাহ ছাড়ার সময় সব প্রাণীকে সঙ্গে নিতে পারেননি মাহমুদ। তিনটি সিংহ, কয়েকটি কুমির এবং কয়েকটি আফ্রিকান উটপাখি সেখানেই রেখে যেতে হয়েছিল। পরিস্থিতি কিছুটা বদলানোর কয়েক মাস পর তিনি পুরোনো চিড়িয়াখানায় ফিরে যান। কিন্তু যে প্রাণীগুলোকে রেখে গিয়েছিলেন, তাদের আর ফিরে পাননি। কুমির ও উটপাখিগুলোর শুধু হাড় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। আর খাঁচায় আটকে রেখে যাওয়া তিনটি সিংহ কোথায় গেছে, তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

যুদ্ধের আঘাত অবশ্য শুধু ক্ষুধা কিংবা শারীরিক ক্ষতিতে থেমে নেই। লাগাতার বিস্ফোরণ, যুদ্ধবিমানের শব্দ ও গোলাগুলির মধ্যেও থাকতে হচ্ছে প্রাণীগুলোকে। আন্তর্জাতিক প্রাণিকল্যাণ সংস্থা ‘ফোর পজ’-এর পশুচিকিৎসক আমির খলিল বহুবার গাজায় গিয়ে চিড়িয়াখানার প্রাণী উদ্ধারের কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি জানান, বিশেষ করে সিংহ মানুষের কান এড়িয়ে যাওয়া অনেক সূক্ষ্ম শব্দ ও কম্পনও বুঝতে পারে। ফলে একের পর এক বোমাবর্ষণ ও সংঘাত তাদের মধ্যে প্রবল ভয় ও মানসিক চাপ তৈরি করে।

গাজার চিড়িয়াখানাগুলোর এমন দুর্দশা নতুন নয়। ২০১৯ সালে রাফাহর একটি চিড়িয়াখানা থেকে সিংহ, বানর, নেকড়ে, উটপাখিসহ ৪০টির বেশি প্রাণী সরিয়ে নিয়েছিল ফোর পজ। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট এবং পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসার অভাবের কারণে সেখানকার প্রাণীদের অবস্থা তখনও শোচনীয় ছিল।

ধ্বংসস্তূপের মধ্যে শিশুদের একটু অন্য পৃথিবী

তবু নুসেইরাতের এই চিড়িয়াখানার গল্প শুধু মৃত্যুর নয়। নিস্তেজ সিংহটির কাছ থেকে সাড়া না পেলেও শিশুরা তোতাপাখিকে কাঁধে বসাচ্ছে, ছোট বানরকে আদর করছে। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় নিয়মিত বিমান হামলার খবর আসছে। সেই পরিবেশে কয়েক ঘণ্টার জন্য যুদ্ধের শব্দ ভুলে থাকার জায়গা খুবই কম।

৪২ বছরের দর্শনার্থী কারাম আল-মাজিনের কথায় সেই বাস্তবতাই ধরা পড়ে। শিশুদের খেলার মতো জায়গা আর প্রায় নেই। চারদিকে পড়ে আছে ধ্বংসস্তূপ, পাথর আর তাঁবু। দিনের পর দিন একই পরিবেশে আটকে থেকে শিশুরা ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাই অপুষ্ট প্রাণীদের এই ছোট্ট চিড়িয়াখানাও তাদের কাছে যেন অন্য এক পৃথিবীতে ঢোকার দরজা।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলে আসছে, গাজায় তাদের হামলার লক্ষ্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান ও অবকাঠামো। তবে চিড়িয়াখানার মতো বেসামরিক স্থাপনা এবং সেখানকার প্রাণীদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মঙ্গলবার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি তারা।

যুদ্ধের হিসাব সাধারণত মানুষের মৃত্যু, আহতের সংখ্যা, ভেঙে পড়া বাড়ি কিংবা ধ্বংস হওয়া সড়ক দিয়ে লেখা হয়। নুসেইরাতের এই চিড়িয়াখানা সেই হিসাবের বাইরে আরেকটি গল্প বলছে। সেখানে কোনও প্রাণী জানে না হঠাৎ কেন খাবার আসা বন্ধ হলো, কেন মাঝরাতে আকাশ কেঁপে ওঠে, কিংবা কেন এক শহর ছেড়ে আরেক শহরের খাঁচায় এসে থাকতে হলো।

আর যে শিশুটি আজ একটি তোতাকে কাঁধে বসিয়ে হাসছে, তারও হয়তো জানা নেই পাশের খাঁচার সিংহটি কেন আর দর্শকের দিকে তাকায় না। যুদ্ধের ভাষা তারা কেউ বোঝে না... শিশুও নয়, প্রাণীও নয়। অথচ তার মূল্য দিতে হচ্ছে দু’পক্ষকেই।


সূত্র: রয়টার্স

গাজাচিড়িয়াখানাযুদ্ধের ক্ষত
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise