মাসউদ পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে’ রয়েছে ইরান

মাসউদ পেজেশকিয়ান- রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে’ রয়েছে ইরান। এমনটাই মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। এদিকে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা আরও বিস্তৃত করেছে ওয়াশিংটন। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা শহরও।
জবাবে অঞ্চল জুড়ে নিজেদের হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বাহরাইন, জর্ডান ও সিরিয়ায় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা। অন্যদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের আকাশপথের নেভিগেশন ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান বললেন, ‘বাস্তবতা হলো, আজ ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্র একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িত। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে এবং মেনে নিতে হবে এই প্রতিরোধের স্বাভাবিক পরিণতি।’
তার এ মন্তব্যের আগে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব এলাকা অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অঞ্চলগুলোর চেয়ে আরও ভেতরে অবস্থিত। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
জুনে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতার কারণে কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর আবার শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের লড়াইয়ের মধ্যে এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে তেলের দাম।
যেসব ইরানি প্রদেশে সোমবার হামলা হয়েছে, সামরিক ঘাঁটি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে সেগুলোর প্রতিটিতেই।
দেশটির একমাত্র কার্যকর বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান বুশেহর প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ মোজাফফারি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে বললেন, ‘কয়েক মিনিট আগে মার্কিন শত্রুপক্ষের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বুশেহর শহরের কয়েকটি স্থানে।’
সাম্প্রতিক হামলার পরও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।




