আইআরজিসির দাবি
হরমুজ মাইনে আঘাত লেগে তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ

ছবি: রয়টার্স
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী সুপারট্যাংকার নৌমাইনে আঘাত করে। এতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা ঘটে।
আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটিতে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ছিল। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটি নৌমাইনে আঘাত করে।
আইআরজিসি নৌবাহিনী জাহাজটিকে ‘বেপরোয়া’ বা নিয়ম না মানা ট্যাংকার হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, জাহাজটি নেভিগেশন ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার সুযোগ নিয়ে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করছিল বলেও দাবি করেছে তারা।
তবে বিবৃতিতে জাহাজটির নাম, মালিকানা বা কোন দেশের পতাকাবাহী তা জানানো হয়নি। এতে হতাহতের কোনো তথ্যও দেওয়া হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও স্পষ্ট করা হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি আইআরজিসির বলে দাবি করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনে আঘাতের পর একটি সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণের দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘অনুমোদনহীন’ একটি পথ দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় তেলবাহী সুপারট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায়। আইআরজিসি দাবি করেছিল, জাহাজটি তার অবস্থান শনাক্ত করার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ সাপ্তাহিক প্রতিবেদনের সময়ে ১২টি হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০টি হরমুজ প্রণালিতে, একটি উপসাগরে এবং একটি ওমান উপসাগরে ঘটেছে।
ইউকেএমটিওর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত জাহাজগুলোর মধ্যে ছয়টি যাত্রা অব্যাহত রেখেছে অথবা বন্দরে পৌঁছেছে। একটি জাহাজ হারিয়ে গেছে। দুটি জাহাজ অচল হয়ে পড়েছে বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। আরও তিনটি ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি বা পরিণতি নিশ্চিত করা যায়নি।
তবে হামলার প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সমস্যার কথা জানিয়েছে ইউকেএমটিও। সংস্থাটি বলেছে, হামলার শিকার বেশির ভাগ জাহাজ তাদের কাছে ঘটনা জানাতে চাইছে না। অন্য সূত্রে পাওয়া তথ্যও সব সময় যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
ইউকেএমটিও আরও জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সহায়তার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের যে হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটছে। বিশ্বে তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা




