‘উম্মাহকে গর্বিত করেছেন খামেনি’

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বইছে শোক আর শ্রদ্ধার জোয়ার। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক থেকে শুরু করে রাজনীতিক, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা তার আপসহীন নেতৃত্বের কথা স্মরণ করছেন।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) ইরানের রাজধানী তেহরানে গ্র্যান্ড মোসাল্লা খামেনির বিদায়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আগামীকাল ৫ জুলাইও চলবে এই আনুষ্ঠানকিতা। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বহু বিদেশি কূটনীতিকের পাশাপাশি প্রায় ২ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।
গতকাল শুক্রবার খামেনির শেষ বিদায়ের প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতেই বিশ্বজুড়ে নেটিজেনরা তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে এই নেতাকে নিয়ে নিজেদের আবেগ আর প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন তারা।
মার্কিন লেখক ও অধিকারকর্মী শন কিং এক্স বার্তায় লিখেছেন, আমি কোনো এক দিন তার সঙ্গে দেখা করার আশা করেছিলাম। জীবনের শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত তিনি সফল জীবন কাটিয়েছেন।
‘খামেনি ছিলেন নির্ভীক। নিজের দেশের মানুষ ও মাটির রক্ষক ছিলেন তিনি। খামেনি মুসলিম উম্মাহকে গর্বিত করেছেন। তার চলে যাওয়া উম্মাহকে শোকহত করেছে’, পোস্টে যোগ করেন শন কিং।
শোকের সাগরে ভাসছে ইরান
০৪ জুলাই ২০২৬
রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইরানি জনগণের পাশাপাশি এই অপূরণীয় ক্ষতিতে আমরাও গভীরভাবে শোকাহত’।
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি ফারসি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ইরান এবং এই অঞ্চলের উন্নয়নে তার দূরদর্শী নির্দেশনা ও ঐতিহাসিক ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।’
ভারতের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট মেহবুবা মুফতি তেহরানে এসে শোক ও সংহতি প্রকাশ করতে পারাকে একটি সম্মান হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক কর্মী ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাবেক প্রার্থী তাগরিদ আল-মাভেদ বলেছেন, শহীদ এই নেতার অধীনে ইরান কোনো শর্ত ছাড়াই ফিলিস্তিন ও লেবাননের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল। যেখানে অনেক আরব নেতাও তা করতে পারেননি।
‘শহীদ এই নেতার জানাজার জন্য আক্ষরিক অর্থেই পুরো বিশ্ব এখন তেহরানে সমবেত হয়েছে। সব জাতি ও ধর্মের মানুষ আজ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হয়েছে’, মার্কিন সাংবাদিক ইথান লেভিন্স মন্তব্য করেছেন।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে খামেনি নিহত হন। খামেনির দাফনের জন্য প্রথমে চলতি বছরের মার্চ মাসে সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পরে তা স্থগিত করা হয়।
দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার দাফনকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী আনুষ্ঠানিকতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে এই খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানকিতা শুরু হয়।






