‘চরম অবিশ্বাসের’ মধ্যেই চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টা ধীরগতির হওয়ার জন্য সোমবার যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করেছে ইরান। তারা এ ক্ষেত্রে দায়ী করেছে আস্থার অভাব, ওয়াশিংটনের পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং অঞ্চলে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলাকে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, ‘চরম সন্দেহ ও অবিশ্বাসের পরিবেশে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং বার্তা বিনিময়ও চলছে সেই পরিবেশেই।’
তিনি যোগ করেন, দুই দেশ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি বললেন, ‘অন্য পক্ষ ক্রমাগত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং নতুন বা পরস্পরবিরোধী দাবি উত্থাপন করছে। স্বাভাবিকভাবেই আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করবে এই পরিস্থিতি।’
বাকাই উল্লেখ করেন, যদি পরস্পরবিরোধী বার্তাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনাকৌশলের অংশ হয়, তাহলে তা ইরানের ক্ষেত্রে কাজ করবে না। আর যদি এগুলো মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার প্রতিফলন হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের উচিত দ্রুত স্পষ্ট ও চূড়ান্ত অবস্থান নেওয়া।
তিনি জানান, লেবাননসহ অঞ্চলে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড থেকে আলাদা করে দেখে না। তার মতে, আঞ্চলিক সংঘাত অবসানের যেকোনো চুক্তির মধ্যে লেবাননের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
লেবানন প্রসঙ্গে তার এই মন্তব্য আসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশের পর, যেখানে তিনি বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর দাহিয়েহে আবার হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। দাহিয়েহ হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
বাকাই আরও জানান, পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত বিষয় নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি এবং তেহরান এখনো তাদের জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের মূল দাবিটি অনুসরণ করছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেছেন, এ ধরনের আচরণ অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তোলে। একই সঙ্গে আত্মরক্ষার নীতির ভিত্তিতে পাল্টা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইরানের রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে তারা ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সোমবার বলেছে, এর জবাবে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা।
বাকাই আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করেন, ‘অতীত থেকে শিক্ষা নিন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে আপনাদের সক্ষমতা ব্যবহার করতে দেবেন না।’






