ইরান যুদ্ধের মধ্যেও গাজায় বন্ধ ছিল না ইসরায়েলি বর্বরতা

ইসরায়েলের হামলার শিকার একটি গাড়ি। এ হামলায় আলজাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ ওয়াসা নিহত হন। ছবি: এপি
টানা ৪০ দিনের বিধ্বংসী যুদ্ধের পর গত বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেইসঙ্গে আগামী শনিবার ইসলামাবাদে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে তাদের।
এ আলোচনায় অংশ নেবেন ওয়াশিংটন, তেহরান, ইসলামবাদসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কিছু দেশের প্রতিনিধিরা।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমন ও স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টার লক্ষ্যে হবে এ আলোচনা।
ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। একইসঙ্গে সেই থেকে প্রতিনিয়ত গাজা, লেবানন ও দখলকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
গোটা বিশ্বের নজর যখন ইরানের দিকে, তখন আন্তর্জাতিক ফোকাসের আড়ালে গাজায় ঘটে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা। ৪০ দিন ধরে চলমান বিধ্বংসী ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের মধ্যে ৩৬ দিনই হয়েছে গাজায় বোমাবর্ষণ।
ছয় মাস আগে হওয়া তথাকথিত 'যুদ্ধবিরতি' হাজারবার লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল।
গত প্রায় দেড় মাসে ইসরায়েল শুধু গাজায় বোমাবর্ষণই চালিয়ে যায়নি, বরং গাজা ভূখণ্ড ও মিসরের সিনাই উপত্যকায় অবস্থিত রাফাহ সীমান্তটিও রেখেছে বন্ধ। ফলে অবরুদ্ধ গাজাবাসীদের জন্য আটকে গেছে জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণ সরবরাহ।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৭২ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল, যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছে অন্তত ১ লাখ ৭২ হাজার
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে ৪০ দিনের মধ্যে ৩৬ দিনই হামলা হয়েছে গাজায়। অর্থাৎ মাত্র চার দিন কোনো ধরনের সহিংসতা, মৃত্যু বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি এখান থেকে।
এ সময়ের মধ্যে গাজায় নিহত কত?
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ১০৭ জন নিহত ও ৩৪২ জন আহত হয়েছে।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলমান প্রায় ছয় মাস ধরে। কিন্তু নামমাত্র এ যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩৮ জন নিহত এবং দুই হাজারের বেশি আহত হয়েছে ইসরায়েলি হামলায়।
হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৭২ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল, যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছে অন্তত ১ লাখ ৭২ হাজার।
হাজারও মানুষের দেহ এখনো চাপা পড়ে আছে ধ্বংসস্তূপের নিচে। তাদের মৃত বলেই ধরে নিয়েছেন স্বজনরা।
বুধবার যখন বিশ্ব যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির অপেক্ষায় ছিল, ঠিক সেদিনই সব আশায় গুড়ে বালি দিয়ে গাজায় আক্রমণ করে ইসরায়েল। তাতে নিহত হয়েছেন এক সাংবাদিক। তিনি আলজাজিরার প্রতিবেদক মোহাম্মদ ওয়াশাহ। ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় নিহত হন তিনি।
ঠিক একই দিনে, অর্থাৎ ৮ এপ্রিল লেবাননেও আক্রমণ চালায় ইসরায়েল। এটি ছিল সম্প্রতি চালানো সবচেয়ে বড় হামলা, যাতে নিহত হয় অন্তত ২৫৪ জন আর আহত হয় হাজারের বেশি।
বন্ধ চিকিৎসা সহায়তা
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই গাজার সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। তাতে বন্ধ হয়ে যায় আহত রোগীদের বিদেশে চিকিৎসা কার্যক্রম।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ২৩ হাজার ৪০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৪ হাজার ৯৯৯টি ট্রাক ঢুকতে দিয়েছে ইসরায়েল।

