খামেনির দাফনে শতাধিক দেশের প্রতিনিধি দল, থাকছেন বাংলাদেশের স্পিকারও

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার শুরু হচ্ছে। এতে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি অংশ নেবেন। এমন তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আলী খামেনি। সেদিনই শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্চে নির্ধারিত দাফন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন সূচি ঘোষণা করে ইরান।
নতুন সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। এদিনই অধিকাংশ বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
শনিবার ও রবিবার তেহরানে জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন থাকবে। রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে খামেনির কফিন রাখা হবে। তার পরিবারের নিহত কয়েকজন সদস্যের কফিনও সেখানে রাখা হবে। সাধারণ মানুষ সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন।
সোমবার ও মঙ্গলবার শেষযাত্রা ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমের উদ্দেশে যাবে। বুধবার মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকে। নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। পরে নাজাফ ও কারবালায় শোকযাত্রা এবং ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী শুক্রবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে। মাশহাদই ছিল আলী খামেনির জন্মস্থান।
দাফন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান পর্যায়ে অংশ নিচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রাষ্ট্রীয় দাফনে যোগ দেবেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ক্ষেত্রেও দেশটি ভূমিকা রাখে। সেই সমঝোতার ভিত্তিতেই যুদ্ধ বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা চলছে।
রাষ্ট্রপ্রধান ছাড়াও বিভিন্ন দেশ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে। তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
ভারতের প্রতিনিধি দলে থাকছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘারিটা এবং বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আতা হাসনাইন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল। বর্তমানে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ পদে থাকা শিয়া মুসলিম সরকারি কর্মকর্তা। ভারতের প্রতিনিধি দলে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ এবং জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও থাকছেন।
চীনের প্রতিনিধি হিসেবে যাচ্ছেন দেশটির ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ। ক্রেমলিনও তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বৃহস্পতিবারই তেহরানে পৌঁছেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আফগান গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির অর্থনৈতিক বিষয়ক প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদারও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশের গণমাধ্যম।
ইরানের দাবি, এটি আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানগুলোর একটি হতে যাচ্ছে। আয়োজকদের ধারণা, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির দাফনে প্রায় এক কোটি মানুষের উপস্থিতির রেকর্ডও এবার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা এবং আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না। ভারতে তার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হত্যার হুমকির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দাফন অনুষ্ঠানকে ঘিরে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
তিনি বললেন, ‘ইরানের শত্রুরা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, যেন কোনো ভুল হিসাব না করে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা বা আগ্রাসন চালানো হলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কঠোর ও শক্ত প্রতিশোধ নেবে।’






