খামেনির ‘বজ্রমুষ্টির’ ভাস্কর্য উন্মোচন করল ইরান

‘উই মাস্ট রাইজ আপ’ শিরোনামে বিশাল এক মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য উন্মোচন করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বহুদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় দাফন কর্মসূচিকে সামনে রেখে তেহরানের ঐতিহাসিক এঙ্গেলাব (বিপ্লব) স্কয়ারে ‘উই মাস্ট রাইজ আপ’ শিরোনামে বিশাল এক মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য উন্মোচন করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। জাতীয় প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে এটিকে।
খামেনির উঁচু করে তোলা মুষ্টির আদলে নির্মিত এই বিশাল স্থাপনার চারপাশে উড়ন্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতীকী চিত্র রয়েছে। এতে ফারসি, আরবি ও ইংরেজিতে ‘উই মাস্ট রাইজ আপ’ বা ‘আমাদের অবশ্যই জেগে উঠতে হবে’ স্লোগান লেখা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ভাস্কর্যটির নকশা খামেনির জীবনের শেষ মুহূর্ত থেকে অনুপ্রাণিত। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের সূচনা করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর তার মরদেহ মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। এই ভঙ্গিকে প্রতিরোধের স্থায়ী প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করছেন তারা।
এ ছাড়া তেহরানজুড়ে একই ধরনের ব্যানার ও বড় বড় দেয়ালচিত্র স্থাপন করা হয়েছে। রাজধানীর প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলগুলোকে শোক ও জাতীয় সংহতির প্রতীকী সাজে সাজানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে খামেনির ছবি, সামরিক প্রতীক এবং জাতীয় ঐক্যের আহ্বানসংবলিত পোস্টার ও ব্যানার টানানো হয়েছে।
দিনভর এঙ্গেলাব স্কয়ারে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। অনেককে ভাস্কর্যের ছবি তুলতে এবং জাতীয় ঐক্যের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উপস্থিত ব্যক্তিরা এই ভাস্কর্যকে বিদেশি চাপ মোকাবিলা এবং কর্মকর্তাদের ভাষায় ‘প্রতিরোধের পথ’ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আগামী কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় দাফন কর্মসূচিতে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক কমান্ডার, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের অংশ নিচ্ছেন। এ উপলক্ষে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্মরণানুষ্ঠানে অংশ নিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এই ভাস্কর্যের উন্মোচন সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর জাতীয় দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরার সরকারি প্রচেষ্টার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মুষ্টিবদ্ধ হাতের ইরানের রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান প্রতীকে পরিণত হয়েছে এই ভাস্কর্য।




