মংডুতে তিন দিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ, আতঙ্কে রোহিঙ্গারা

রাখাইনে সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় আতঙ্কে স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের মংডু উপজেলার ক্যা গং তাউং গ্রামপঞ্চায়েতের সব বাসিন্দাকে তিন দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে আরাকান আর্মি। একই সময়ে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বুথিডং ও মংডু এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী চালিয়েছে বিমান হামলা। এ হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন, ধ্বংস বা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০টি বাড়িঘর। সব মিলিয়ে সীমান্তজুড়ে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
ক্যা গং তাউং গ্রামপঞ্চায়েতে ১০টি পরিবারের মোট ৫৪ জন বাসিন্দার বসবাস। তাদের অভিযোগ, গত ২৯ মে নগার খু ইয়া গ্রামে অবস্থানরত আরাকান আর্মির একটি ব্যাটালিয়ন স্থানীয় গ্রামপ্রধানদের ডেকে জানায়, তিন দিনের মধ্যে গ্রামের সব বাসিন্দাকে নিজেদের পছন্দমতো অন্যত্র সরে যেতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কেউ গ্রামে অবস্থান করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও করা হয়েছে সতর্ক।
রোহিঙ্গা বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই নির্দেশে গ্রামজুড়ে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবারই কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবে, তা বুঝে উঠতে পারছে না। ফলে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে তারা।
এদিকে মংডু শহরতলিতে
রাতের বেলায় আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী বিমান
হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাল্টা জবাব দিচ্ছে আরাকান আর্মিও। এতে
বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী টেকনাফ এলাকার ঘরবাড়ি।
আতঙ্কে অনেক সীমান্তবাসী আশ্রয় নিচ্ছেন নিরাপদ স্থানে।
রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমারের অন্যতম বড় মানবিক সংকট হিসেবে পরিচিত। তবে দেশটির সেনাবাহিনী এই জনগোষ্ঠীকে ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও তল্লাশিচৌকিতে হামলার পর ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু হয়। এরপর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তৎকালীন হাইকমিশনার জাইদ রা’দ আল-হুসেইন সেই অভিযানকে অভিহিত করেছিলেন ‘জাতিগত নির্মূলের এক আদর্শ উদাহরণ’ হিসেবে।
ওই সহিংসতার মুখে প্রাণ বাঁচাতে ২০১৭ সালের আগস্টে প্রায় সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরে নতুন নতুন সংঘাতের কারণে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা।





