পশ্চিমবঙ্গ
প্রথম বৈঠকেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে জমি পেল বিএসএফ
- বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু আজ থেকেই
- নতুন চাপ তৈরি হতে পারে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে নবান্নে নবগঠিত বিজেপির পাঁচ মন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, প্রক্রিয়া সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে এবং আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলছেন, বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে বিএসএফকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ থেকেই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী বহু এলাকায় কাঁটাতার নির্মাণ প্রক্রিয়া আটকে ছিল।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিস্তীর্ণ অংশ পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে গিয়েছে। কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো একাধিক জেলায় এখনও বহু জায়গায় সম্পূর্ণ কাঁটাতার দেওয়া হয়নি। জমি সংক্রান্ত জটিলতা, প্রশাসনিক অনুমতির সমস্যা এবং স্থানীয়দের আপত্তির কারণে বারবার থমকে গিয়েছিল সীমান্তে বেড়া তৈরির কাজ । বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশের প্রশ্নে সরব হয়েছে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ।
ক্ষমতায় এসেই সেই অমীমাংসিত বিষয় অগ্রাধিকার দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের এই সিদ্ধান্ত বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগও। সীমান্ত লাগোয়া বহু গ্রামের মানুষ কৃষিকাজ, চাষের জমিতে যাতায়াত এবং দৈনন্দিন জীবিকার জন্য সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার ওপর নির্ভরশীল।
দ্রুত কাঁটাতার নির্মাণ শুরু হলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার দরিদ্র ও সংখ্যালঘু মুসলিম পরিবারগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি।
বিজেপির বক্তব্য, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা এবং বেআইনি অনুপ্রবেশ রোখার জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি। তবে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বাংলাদেশ সীমান্ত কেন্দ্র করে এমন সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন চাপ তৈরি হতে পারে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কেও। সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতার নির্মাণ, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সীমান্তবর্তী মানুষের চলাচলে বাধা নিয়ে অতীতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ। ফলে নতুন করে সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়লে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সঙ্গে সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লে সংঘর্ষ বা গুলি চালানোর ঘটনাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মানবাধিকার কর্মীদের একাংশ। সম্প্রতি ত্রিপুরা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনা ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই আবহে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতার নির্মাণ , নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্ত নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশেও।




