‘আপনারা জেন-জি নন’, সিজেপি নেতাদের বললেন দিল্লির আদালত

যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের ঘটনায় আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস গ্রেপ্তার হন
জেন-জি আন্দোলনের নামে বিক্ষোভের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট। ২৭ ও ৩১ বছর বয়সী ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে উদ্দেশ করে আদালত বলেছেন, তারা জেন-জি প্রজন্মের নন। একই সঙ্গে বিক্ষোভের নামে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের ভর্ৎসনা করেন বিচারপতিরা।
ম্যাজিস্ট্রেটের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশ চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনের শুনানিতে বুধবার এসব পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের চেষ্টা করে জামিনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সিজেপির এই দুই নেতা। তদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আদালত বলেছেন, বিক্ষোভের সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিরা ব্যারিকেড ভাঙলে অন্যরাও তা অনুসরণ করতে পারেন। এমন লোকও থাকতে পারেন, যারা বিক্ষোভের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন না।
বিচারপতি সুব্রামোনিয়াম প্রসাদ অন্য দেশগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় রূপ নেওয়ার উদাহরণ তুলে ধরেন।
তিনি বললেন, ‘নিজেদের দেশের বাইরেও আমরা এমন ঘটনা ঘটতে দেখেছি। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দিয়ে শুরু হলেও পরে তা সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় রূপ নিয়েছে।’
সিজেপির নেতাদের মুচলেকার শর্ত ভঙ্গের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন আদালত। বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, শর্ত ভাঙলে কর্তৃপক্ষ কি তাদের আরও কঠোর শর্তে মুচলেকা দিতে বলতে পারে না?
তবে ১৪ অক্টোবর যন্তর মন্তরে তিরঙ্গা বিক্ষোভ আয়োজনের চেষ্টা করলে দাস ও রাঙ্কাকে আবারও আটক করা হয়। পরে তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ১৯ অক্টোবর দেওয়া আদেশে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) পর্যবেক্ষণ করেন, অভিযুক্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে মুচলেকার শর্ত ভেঙেছেন। এতে তাৎক্ষণিকভাবে শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই আদেশের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে আবেদন করেন তারা।
‘আপনারা জেন-জি নন’
শুনানির একপর্যায়ে সিজেপির দুই নেতার বয়স জানতে চান বিচারপতিরা। তাদের বয়স ২৭ ও ৩১ বছর জানানো হলে আদালত বলেন, তারা জেন-জি প্রজন্মের নন। একই সঙ্গে আগের শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং বর্তমান বিক্ষোভের উদ্দেশ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।
আদালত বলেছেন, ‘তাহলে আপনারা জেন-জি নন। মিলেনিয়ালদের বয়সসীমা কত? আগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছিল, সেখানে শিশুরাও ছিল। কিন্তু এখন আন্দোলনের উদ্দেশ্য ভিন্ন। মানুষ একই থাকলেও বদলে গেছে উদ্দেশ্য।’
শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, উদ্দেশ্য এবং তিনি কী করেন, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।
সিজেপির নেতাদের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বিচারপতিরা বলেছেন, ‘পরবর্তী প্রশ্ন হলো, আপনারা কারা? আপনারা কী করেন? আপনাদের সংগঠন কোনটি? সংগঠনটির উদ্দেশ্য কী? যখন শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তখন এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’
সিজেপির দুই নেতাকে সন্ধ্যায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন হাইকোর্ট। এরপর তাদের আইনজীবী আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন।
সূত্র: এনডিটিভি




