সংকীর্ণ স্বার্থ হাসিলে বিরোধী জোটের রাজনীতিতে ভারত ভাঙার শঙ্কা ভাগবতের

আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হারাতে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা দেশের পক্ষে ক্ষতিকর। সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে সমাজের বিভাজনকে কাজে লাগাচ্ছে কিছু শক্তি। মঙ্গলবার নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) বার্ষিক বিজয়া দশমী উৎসবের মঞ্চ থেকে এই মন্তব্য করে রাজনৈতিক ঐক্য ও জাতীয় সংহতির প্রশ্নে সরব হলেন সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত। তার বক্তব্যে বিরোধী জোটের রাজনীতি থেকে শুরু করে মণিপুরের হিংসা, আন্দোলনের সীমা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রসঙ্গও উঠে এল।
ভাগবতের কথায়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে সংকীর্ণ স্বার্থে জোট বাঁধার প্রবণতা দেশের পক্ষে শুভ নয়। সমাজের মধ্যে নানা বিভাজন, ঈর্ষা ও বিদ্বেষ ইতিমধ্যেই রয়েছে। সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শক্তি সমাজ এবং রাষ্ট্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তার। বিরোধীদের জোটবদ্ধ রাজনীতির প্রেক্ষিতে সংঘপ্রধানের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের ধারণা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভাগবত। তার বক্তব্য, কোনও বিক্ষোভ বা আন্দোলনই সংবিধান ও আইনের কাঠামোর বাইরে যেতে পারে না। সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে দিয়ে সম্ভব নয়, তার জন্য সমাজের ভিতর থেকেও উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রতিবাদী গোষ্ঠী, রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রশাসন,কারও পদক্ষেপেই সামাজিক ঐক্য নষ্ট হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের অগ্রগতির প্রসঙ্গ টেনে ভাগবত বলেন, দেশকে ভেতর থেকে দুর্বল করার অপচেষ্টা সফল হবে না। তার দাবি, ভারতের অগ্রগতির পথ আটকাতে না পেরে কিছু শক্তি সমাজে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। ফ্রান্স, আলবেনিয়া, বাংলাদেশ ও নেপালের পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়েই সামাজিক শৃঙ্খলা, সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধের উপর চাপ বাড়ছে।
মণিপুরের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তোলেন সংঘপ্রধান। মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসার পিছনে কারা সক্রিয় ছিল, সীমান্তপারের উগ্রপন্থী শক্তির কোনও ভূমিকা ছিল কি না এবং বিদেশি শক্তি অশান্তির সুযোগ নিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, মণিপুরে শান্তি ফেরাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস দূর করার উদ্যোগ।
সঙ্ঘের স্বয়ংসেবকেরা মণিপুরে ত্রাণ ও শান্তি ফেরানোর কাজে যুক্ত রয়েছেন বলেও দাবি করেন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
বিরোধী জোটের রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা এবং জাতীয় সংহতির উপর জোর,বিজয়া দশমীর ভাষণে এই দুই সুরই স্পষ্ট করলেন সংঘপ্রধান।



