কেন পশ্চিমের দ্বারস্থ আরএসএস

আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে- রয়টার্স
ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। সম্প্রতি এমন অভিযোগ করেছে একটি মার্কিন সংস্থা। প্রতিবেদনের পর বিশ্ব জুড়ে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে সফরের আয়োজন করছে।
দিল্লিতে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে আরএসএস।
গত মঙ্গলবার সফরগুলোর ঘোষণা দেওয়া হয়। ভারতের সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে তীব্র সমালোচনা। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই মার্কিন ফেডারেল সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দশক ধরে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে আরএসএস।
তাদের লেখায় হিটলারের নীতিগুলোর প্রতি প্রশংসা খুঁজে পাওয়া যাবে। এভাবেই তারা ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মোকাবিলা করতে চেয়েছিল। বর্তমানে তাদের অনুপ্রেরণার উৎস ইসরায়েল। কারণ ইসরায়েলও মুসলিম ও খ্রিস্টানদের সম্পূর্ণ নির্মূল করার জন্য একই নীতি অনুসরণ করছে
১৯২৫ সালে বর্তমান মহারাষ্ট্রের নাগপুরে চিকিৎসক ও হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা কেশব বলীরাম হেডগেওয়ার প্রতিষ্ঠা করেন ডানপন্থী হিন্দু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আরএসএস। সংগঠনটি ভারতের সমাজব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে কাজ করে থাকে। তারা স্কুল, হাসপাতাল, সাময়িকী ও প্রকাশনা সংস্থা পরিচালনা করে। পাশাপাশি ‘হিন্দুত্ববাদ’ প্রচার করে। এটি একটি হিন্দু আধিপত্যবাদী আদর্শ, যার লক্ষ্য হলো ভারতকে একটি সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র থেকে হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তর করা।
আরএসএস নিজেকে ‘হিন্দুকেন্দ্রিক সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ হিসেবেই উপস্থাপন করে। যার উদ্দেশ্য দেশকে গৌরবের চূড়ায় নিয়ে যাওয়া। তারা আড়াই হাজারের বেশি ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। যাকে বলা হয় সংঘ পরিবার।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দি সাহিত্যের অধ্যাপক ও সাংস্কৃতিক সমালোচক অপূর্বানন্দ আলজাজিরাকে বলেছেন, ‘আরএসএস একটি ফ্যাসিবাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিত। আপনি আরএসএসের প্রথম সারির তাত্ত্বিকদের লেখা পড়লে দেখবেন তারা মুসোলিনি এবং হিটলারের অনুপ্রেরণা নিয়েছেন।’
হিন্দু মহাসভার নেতা এবং হেডগেওয়ারের আদর্শিক গুরু বি এস মুঞ্জে ১৯৩১ সালে ইতালির স্বৈরশাসক বেনিতো মুসোলিনির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনি ফ্যাসিবাদী যুব ও সামরিক সংগঠনগুলোর খোলামেলা প্রশংসা করতেন। হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করার জন্য সেগুলোকে একটি মডেল হিসেবে দেখতেন তিনি।
আরএসএসের দ্বিতীয় প্রধান এম এস গোলওয়ালকার ১৯৩৯ সালে ‘উই, অর আওয়ার নেশনহুড ডিফাইনড’ শিরোনামে একটি বই লেখেন। সেখানে তিনি জাতিগত বা জাতীয় বিশুদ্ধতা বজায় রাখার উদাহরণ হিসেবে নাৎসি জার্মানির সংখ্যালঘুদের ওপর চালানো নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনেছিলেন।
অধ্যাপক অপূর্বানন্দ বলছিলেন, ‘তাদের লেখায় হিটলারের নীতিগুলোর প্রতি প্রশংসা খুঁজে পাওয়া যাবে। এভাবেই তারা ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মোকাবিলা করতে চেয়েছিল। বর্তমান সময়ে তাদের অনুপ্রেরণার উৎস হলো ইসরায়েল। কারণ ইসরায়েলও মুসলিম ও খ্রিস্টানদের সম্পূর্ণ নির্মূল করার জন্য একই নীতি অনুসরণ করছে।’
১৯৪৮ সালে আরএসএসের সাবেক এক সদস্যের হাতে খুন হন মহাত্মা গান্ধী। এরপর বেশ কয়েকবার এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ভারতে।
নরেন্দ্র মোদি ১৯৭২ সাল থেকে আরএসএসের সদস্য। ২০১৪ সালে তার নেতৃত্বে প্রথম মেয়াদে সরকার গঠিত হয়। যা ছিল লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপির প্রথম বিজয়। মোদি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৮৭ সালে
সরকারের সঙ্গে আরএসএসের সম্পর্ক
আরএসএসকে প্রায়ই ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শিক মাতৃসংগঠন হিসেবে বর্ণনা করা হয়। জনতা পার্টি জোট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সাবেক ভারতীয় জনসংঘের (বিজেএস) নেতারা— যার মধ্যে হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা ও কবি অটল বিহারী বাজপেয়ী ছিলেন—১৯৮০ সালে বিজেপি গঠন করেন।
১৯৯৬ সালে বাজপেয়ীর নেতৃত্বে বিজেপি প্রথমবারের মতো অল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় আসে। কিন্তু সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারায় মাত্র ১৩ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর ১৯৯৮ সালে তিনি আবারও জয়ী হন। অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার আগে ১৩ মাস প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাজপেয়ী একটি স্থিতিশীল মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হেট স্পিচের ঘটনা ২০২৪ সালে ছিল ১১৫টি। ২০২৫ সালে এ জাতীয় ঘটনা ১৬২টিতে পৌঁছায় যা প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি। এ ছাড়া গির্জা ও প্রার্থনা সভাগুলোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫ সাল থেকে গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগে বেশ কয়েকজন মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৯৭২ সাল থেকে আরএসএসের সদস্য। ২০১৪ সালে তার নেতৃত্বে প্রথম মেয়াদে সরকার গঠিত হয়। যা ছিল লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপির প্রথম বিজয়। ২০২৪ সালের জুনে মোদি তৃতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ৭৫ বছর বয়সী মোদি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৮৭ সালে।
ভারতে কি বাড়ছে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন?
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের (হেট স্পিচ) ঘটনা ১৩ শতাংশ বেড়েছে। যার বেশিরভাগই ঘটেছে বিজেপিশাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে।
২০১৫ সাল থেকে গবাদি পশু চড়ানো বা গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগে ভারতে বেশ কয়েকজন মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা পরিকল্পিত হামলার শিকার।
মুসলিমদের পাশাপাশি সম্প্রতি ভারতের খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হেট স্পিচের ঘটনা ২০২৪ সালে ছিল ১১৫টি। ২০২৫ সালে এ জাতীয় ঘটনা ১৬২টিতে পৌঁছায়, যা প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি। এ ছাড়া খ্রিস্টানদের গির্জা ও প্রার্থনা সভাগুলোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
অনেক পর্যবেক্ষক এই পরিস্থিতির জন্য বিজেপি এবং আরএসএসকে দায়ী করলেও সংগঠন দুটি তা অস্বীকার করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেটের (সিএসওএইচ) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রকিব হামিদ নায়েক আলজাজিরাকে বলেছেন, ‘আমরা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা, সহিংসতা, বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া, বৈষম্যমূলক আইন এবং হেট স্পিচের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি দেখছি। এর পাশাপাশি রাষ্ট্র তার পূর্ণ শক্তি, এমনকি এসআইআর ব্যবহার করে পদ্ধতিগতভাবে সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে।’
এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন হলো ভোটার তালিকা হালনাগাদের একটি প্রক্রিয়া, যা গত বছর শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
নায়েকের মতে, ‘আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি অসংখ্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গবেষণা ও তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
আরএসএস কীভাবে পশ্চিমে লবিং করছে
গত মঙ্গলবার দিল্লিতে বিদেশি গণমাধ্যমকে হোসাবালে বলেছেন, আরএসএস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন।
দিল্লিতে সংগঠনটির নতুন ১২ তলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, আরএসএসের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো এটি একটি প্যারা-মিলিটারি বা আধাসামরিক সংগঠন। সংগঠনটি হিন্দু আধিপত্যবাদ প্রচার করে। এর ফলে অন্য নাগরিকরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হচ্ছে। তার দাবি, প্রকৃত সত্য এর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।’
যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে ভারতীয় হিন্দু প্রবাসীরা আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তারা আরএসএসকে ফান্ডিংয়ে সহায়তা করে। তারা যে দেশে আছেন সেখানকার নাগরিক হিসেবে সব অধিকার ভোগ করলেও, ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান
এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি সফরকালে শিক্ষাবিদ, নীতিপ্রণেতা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হোসাবালে। আরএসএসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তিনি লন্ডনে এবং সেন্ট্রাল ইংল্যান্ডের রাগবিতে ছয় দিন ছিলেন। এ সময় তিনি চ্যাথাম হাউজ, রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সাসটেইনেবিলিটির মতো সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হন।
ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়, ব্রিটিশ এমপিদের সঙ্গে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে কনজারভেটিভ পার্টি, লেবার পার্টি এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সেখানে ১০ দিনে একাধিক শহরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। হোসাবালে ওয়াশিংটনভিত্তিক রক্ষণশীল থিংক ট্যাংক হাডসন ইনস্টিটিউটের সঙ্গেও আলোচনা করেন।
বিশ্ব জুড়ে ডানপন্থী রক্ষণশীল সংগঠনগুলোর একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা আরএসএসের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন
‘যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে ভারতীয় হিন্দু প্রবাসীরা আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তারা আরএসএসকে ফান্ডিংয়ে সহায়তা করে। তারা যে দেশে আছেন সেখানকার নাগরিক হিসেবে সব অধিকার ভোগ করলেও ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান,’ আলজাজিরাকে বলছিলেন অধ্যাপক অপূর্বানন্দ।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর হোসাবালে দুদিনের জন্য জার্মানি যান। সেখানে তিনি জার্মান সরকারকে পরামর্শ দেওয়া বৈদেশিক নীতিবিষয়ক থিংক ট্যাংক ‘জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’ এবং দেশটির কেন্দ্র-ডানপন্থী দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত কনরাড এডেনাওয়ার ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
‘বিশ্ব জুড়ে ডানপন্থী রক্ষণশীল সংগঠনগুলোর একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা আরএসএসের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, ’যোগ করেন অপূর্বানন্দ। তবে হোসাবালে জানিয়েছেন, আরএসএস নেতারা সংগঠনটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলেও সফর বজায় রাখবেন।
যেহেতু এই সুপারিশটি একটি দ্বিপক্ষীয় মার্কিন ফেডারেল সংস্থা থেকে এসেছে, তাই এটি আরএসএসের জন্য বড় ধাক্কা। যদি এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়, তবে তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়তে পারে
কেন এই জনসংযোগ আরএসএসের
গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করার পরই সফরগুলো শুরু করে আরএসএস। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কয়েক দশক ধরে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চরম সহিংসতায় জড়িত আরএসএস।
রকিব হামিদ নায়েকের ভাষ্য, ‘আরএসএসের এই আন্তর্জাতিক জনসংযোগ মূলত ইউএসসিআইআরএফের একটি সুপারিশের প্রতিক্রিয়া। ওই সংস্থাটি সংখ্যালঘুদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতনের জন্য আরএসএস এবং এর নেতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে।’
হিন্দুত্ব ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা নায়েক আরও যোগ করেন, ‘যেহেতু এই সুপারিশটি একটি দ্বিপক্ষীয় মার্কিন ফেডারেল সংস্থা থেকে এসেছে, তাই এটি আরএসএসের জন্য বড় ধাক্কা। যদি এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়, তবে তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়তে পারে।’
‘এতে প্রবাসী ভারতীয়দের কাছেও একঘরে হয়ে যাবে আরএসএস। প্রবাসীরা ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই সংগঠনটিকে অর্থায়ন ও টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই নীতিনির্ধারণী মহলে নিষেধাজ্ঞার যে আলোচনা চলছে, তা রুখতে এবং ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে তাদের নেতাদের পশ্চিমে পাঠানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না’, ইতি টানেন নায়েক।






