কলকাতার সেই হোটেলের ইজারাদার গ্রেপ্তার, মালিক অধরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার শিখা ইন হোটেলে আগুন লেগে সাত বাংলাদেশি পর্যটসহ ৯জন নিহতের ঘটনায় ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাতে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ আবু জাফরকে আটক করে। ওই হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্রের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
গোয়েন্দা বিভাগের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আবু জাফর জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা। গত রাতে এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের আরও দুই কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
অগ্নিকাণ্ডের পরে শিখা ইনের পার্শ্ববর্তী মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি হোটেল এবং ৪টি রেস্তরাঁকে সুরক্ষাবিধি না মানার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস বিভাগ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, বুধবার মধ্যরাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত হোটেলটিতে আগুন লাগে। রাত ২টার দিকে নিউ মার্কেট থানায় আগুনের খবর পায় কলকাতা পুলিশ। দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ ও দমকল বাহিনী পাঠানো হয়। জরুরি তৎপরতায় তাদের সঙ্গে কলকাতা ইলেকট্রিক সাপ্লাই করপোরেশনও (সিইএসসি) যুক্ত হয়।
আগুনের কারণ ও পরিস্থিতি তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।
দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানে হোটেল থেকে প্রায় ৬০ জনকে বের করে আনা হয়। এর মধ্যে দুই নারী ও একটি শিশুসহ ৯জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে দেখা যায়, নিহতের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি।
প্রাথমিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে। যদিও অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এলাকাটি নিরাপত্তার আওতায় নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন জানিয়েছে, নিহতদের চারজন কুষ্টিয়ার একই পরিবারের সদস্য। অন্যজন ঢাকার সাভারের বাসিন্দা।
উপহাইকমিশন আরও জানিয়েছে, আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। বাংলাদেশিদের সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইনও চালু রাখা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেছেন, কলকাতার হোটেলগুলোর বৈধ অনুমতিপত্র ও অগ্নিনিরাপত্তা সনদ আছে কি না, তা যাচাই করতে একটি দল গঠনের পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।
তিনি বলেছেন, ভবনটিতে তিনটি তলায় প্রায় ১০টি হোটেল ছিল। কক্ষগুলোও ছিল ছোট। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।




