ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে প্রহ্লাদ যোশী

নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মুখে পদত্যাগের পর ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। খাদ্য ও ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা যোশী অতিরিক্ত হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও দেখবেন।
শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণ এবং প্রহ্লাদ যোশীকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
৫৭ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র প্রধান দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ৩৫তম দিনে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতিকে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি যাতে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে না পারে, সে কারণেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেছেন, চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের জন্য কাজ করে এসেছেন। তার বিশ্বাস, শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থা একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি।
এদিকে প্রধানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। সংগঠনটির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, কেন্দ্র সরকার দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়ায় তারা সদিচ্ছার অংশ হিসেবে আন্দোলন স্থগিত করছেন।
বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিজেপির অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
এর একদিন আগে প্রহ্লাদ যোশী বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসামাজিক গোষ্ঠী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের অধিকার শিক্ষার্থীদের রয়েছে। তবে তাদের প্রকৃত দাবি যেন কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন যোশী।




