তৃণমূলে দ্বিমুখী ক্ষমতার লড়াই, কমিশনে মমতার পাল্টা চাল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংঘাত এবার পৌঁছে গেল নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায়। সোমবার রাতেই দলের সংশোধিত জাতীয় কর্মসমিতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা টানাপড়েনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকালে যখন বিদ্রোহী শিবির নিজেদের জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিল, তখনই কালীঘাটে বসে নতুন করে কর্মসমিতির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। পরে রাতেই সেই নথি কমিশনের কাছে পাঠানো হয়। নতুন তালিকায় চেয়ারপারসন হিসেবে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রাখা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এ ছাড়া চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ওব্রায়েন, দোলা সেন এবং শুভাশিস চক্রবর্তীর মতো নেতাদেরও রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদে।
জানা গেছে, এর আগে তৈরি হওয়া কর্মসমিতির তালিকার তুলনায় কিছু পরিবর্তনও করা হয়েছে। কয়েকজন নেতার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কিছু দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবিরও নিজেদের সংগঠনকে সামনে রেখে পৃথক জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণা করেছে। সেই কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো জায়গা রাখা হয়নি। বরং নিজেদের নেতৃত্বকে সামনে রেখে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গড়ার চেষ্টা চলছে। ফলে একই দলের দুই পক্ষের পৃথক দাবি ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন মূল লড়াই শুধু দলীয় রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নির্বাচন কমিশনের কাছে কোন পক্ষের সাংগঠনিক দাবি বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, তা আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। প্রয়োজন হলে এই বিতর্ক আদালতের দোরগোড়াতেও পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার রাতেই সংশোধিত জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো থেকে স্পষ্ট, বিষয়টিকে হালকাভাবে নিতে রাজি নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের সাংগঠনিক বৈধতার দাবি জোরালো করার আগেই কমিশনের নথিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন শুধু রাজনৈতিক চর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সাংগঠনিক ও আইনি লড়াইয়ের দিকেও এগোতে শুরু করেছে। এদিকে কুণাল ঘোষসহ একাধিক অনুগত নেতা প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, দলের নেতৃত্ব নিয়ে তাদের কাছে কোনো দ্বিধা নেই এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তৃণমূলের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব। তবে এ বিষয়ে এখনো মন্তব্য করেননি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।




