ককরোচদের কর্মসূচি ঘিরে ৩২ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি, থমথমে দিল্লি

সিজেপির জাতীয় পতাকা হাতে কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা— রয়টার্স
ভারতের জাতীয় পতাকা (তেরঙ্গা) হাতে প্রতিবাদের ডাক ঘিরে শুক্রবার ফের থমথমে দিল্লি। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচি আটকাতে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। দলের ডাকে শুক্রবার বিকাল ৫টায় সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি রয়েছে। তার আগে মধ্যদিল্লিতে প্রায় ৩২ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সেন্ট্রাল পার্ক শুক্র ও শনিবার সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি পৌরসভা (এনডিএমসি)। কনট প্লেস ও সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচলেও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখানো এবং নিষিদ্ধ প্রতিবাদস্থলে প্রবেশের অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এর প্রতিবাদেই ফের জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিজেপি।
বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদ সম্মেলন করে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করেন অভিজিৎ। তার অভিযোগ, পুলিশ তাকে সর্বত্র অনুসরণ করছে। বাড়ির সামনেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) গোয়েন্দারা তার ওপরে নজরদারি চালাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। নম্বরপ্লেটহীন গাড়িও তাকে অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ তার।
তার দাবি, জাতীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদের ডাক দেওয়ার পর থেকেই এই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য জেলে যেতে হলেও তারা প্রস্তুত বলে জানান অভিজিৎ।
সিজেপির কর্মসূচির আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনডিএমসি। প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, কনট প্লেস ও সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। দিল্লি পুলিশ সেখানে জমায়েত না করার জন্য প্রতিবাদী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
সিজেপির প্রতিবাদে বাণিজ্যিক এলাকায় যান চলাচল ও ব্যবসা ব্যাহত হতে পারে, এমন আশঙ্কা তুলে এক ব্যবসায়ী দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে কর্মসূচি বন্ধ করার আবেদন আদালত খারিজ করে দেন। আদালতের সেই অবস্থানের পরেও পার্ক বন্ধ রাখা ও নিরাপত্তার কড়াকড়ি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সিজেপি।
সিজেপির মূল দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরাতে হবে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে দলটি। অভিজিতের বক্তব্য, তাদের দাবি সরকার বদলানো নয়। জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় অন্য কাউকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব দিতে হবে।
এই আন্দোলনে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বিভেদ সরিয়ে বিভিন্ন দল ও নাগরিক সংগঠনকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার অভিযোগ, আলাদা আলাদা প্রতিবাদ কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভিন্ন আচরণ আন্দোলনকারীদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা।




