নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে শুভেন্দুর উপদেষ্টা, প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গের ভোট

সংগৃহীত ছবি
সদ্য অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে যে বিতর্কের জন্ম হয়েছিল, নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর তা আরও তীব্র আকার নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত দুই শীর্ষ কর্মকর্তা— মনোজ কুমার আগরওয়াল ও সুব্রত গুপ্ত এখন শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভোট কারচুপির পুরস্কার’ দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে জোরালো হচ্ছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা মনোজ কুমার আগরওয়ালকে বিজেপি সরকার সরাসরি মুখ্যসচিব পদে বসিয়েছে। অন্যদিকে এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধনের মুখ্য পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা। এই দুই কর্মকর্তাই বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তখন থেকেই বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে আসছিল, পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু ও দলিত জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং জাতীয় পর্যায়েও ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত মনোজ কুমার আগরওয়াল ও সুব্রত গুপ্তকে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যদি নির্বাচন পুরোপুরি নিরপেক্ষ হয়ে থাকে, তাহলে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের এত দ্রুত সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বসানো হলো কেন?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, এতে স্পষ্ট বার্তা যাচ্ছে যে ভোট প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখা কর্মকর্তাদের ‘পুরস্কৃত’ করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসও একই অভিযোগ তুলে ধরে দাবি করেছে, ‘নিরপেক্ষ আম্পায়ারদের’ পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
বিশেষ করে সুব্রত গুপ্তকে ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই তাকে শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে যিনি ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, তিনিই পরে সরাসরি বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক দলে যোগ দিলেন।
সমালোচকদের ভাষ্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিরপেক্ষতা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ঘটনাপ্রবাহে সেই নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ভোটের আগে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়া এবং পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিরোধীদের দাবি, এসব ঘটনা শুধু প্রশাসনিক নিয়োগের বিষয় নয়, বরং পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।




