যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা সাংবাদিকের বিরুদ্ধেই এবার মামলা দিল্লি পুলিশ কর্মকর্তার

এসিপি বিবেক ভগত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে এক নারী সাংবাদিকের ওপর যৌন হয়রানি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে। এবার ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ভগত।
তার দাবি, ওই সাংবাদিক ও অন্যরা তাকে জাতপাত নিয়ে কটূক্তি করেছেন। তাকে যৌন নিপীড়ক হিসেবে তুলে ধরে ওই সাংবাদিক এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার মতো ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অভিযোগ ছড়িয়েছেন, তাতে তার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি তার।
এ ঘটনায় দায়ের করা এফআইআরে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্রদের নামও রয়েছে।
এফআইআরে বলা হয়েছে, গত ৩ অক্টোবর জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় যন্তর মন্তরে দায়িত্ব পালন করছিলেন ভগত। অভিযোগ অনুযায়ী, বুটা সিং গোলচত্বরের কাছে প্রকাশ্যে ওই নারীকে তার জাতপাত নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করতে শোনেন তিনি। ওই নারী তার এসিপি পদে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ভগত তার অভিযোগে বলেছেন, তিনি মন্তব্যগুলো উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন।
পরে বেলা ৩টার দিকে বিক্ষোভকারীদের সামলানো ও আটক করার সময় ওই নারী এসিপির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। ভগতের দাবি, ওই সাংবাদিক ও তার সহকর্মীরা বারবার তাকে ঘিরে ধরেন, এতে তার সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। সেদিন সন্ধ্যায় ওই নারী ও অন্যরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে বিক্ষোভ করেন। তারা ভগতের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাকে যৌন নিপীড়ক ও সম্ভাব্য ধর্ষক বলে আখ্যা দেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভগতের অভিযোগ, ওই সাংবাদিক এবং সিজেপির কয়েকজন সদস্য এক্স ও ইনস্টাগ্রামে একই ধরনের অভিযোগসংবলিত পোস্ট ও রিল ছড়িয়ে দেন।
এফআইআরে এসিপি ভগত উল্লেখ করেছেন, যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ওই সাংবাদিক যে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, তা দিল্লি পুলিশের অপরাধ শাখায় পাঠানো হয়েছে এবং সেটির তদন্ত চলছে।
ভগতের দায়ের করা এফআইআরটি তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইনের অধীনে নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়া ও মানহানিসংক্রান্ত ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
এসিপির বিরুদ্ধে ওই সাংবাদিক অভিযোগ তোলার কয়েক দিন পরই ড্যানিপস ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তার সঙ্গে ভগতকেও সাময়িকভাবে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। দিল্লি সরকার জানিয়েছে, অভিযোগ ওঠার আগেই পদোন্নতির প্রস্তাবটি শুরু হয়েছিল। তবে পরে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়।
সূত্র: এনডিটিভি




