Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
সবুজ স্বপ্ন বুনছেন শাকির
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় ইউরোপ

তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে কৃষকের হাহাকার

  • মাঠে ফসল কম, গোয়ালে দুধও শুকোচ্ছে
  • এক দেশ নয়, ফ্রান্স থেকে ইতালি, স্পেন–একসঙ্গে পুড়ছে খেত
  • কোথাও সবজির ফলন কমেছে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত, কোথাও ভুট্টা ফিরেছে ১৯৮০ সালের উৎপাদনস্তরে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
agamir somoy
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২৫
তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে কৃষকের হাহাকার

ইউরোপের চাষিরা বলছেন, তাদের সামনে এখন আর শুধু একটি খারাপ মৌসুম নয়, এ এক ‘নজিরবিহীন সংকট’।

খেতে সবুজ থাকার কথা, সেখানে রোদে পোড়া মাটি। গরু আছে, কিন্তু গরমের ধকলে দুধ কমে গেছে। শীতের জন্য খড় তুলে রাখার কথা, সেটিও মিলছে না যথেষ্ট। ইউরোপজুড়ে একের পর এক তাপপ্রবাহ আর দীর্ঘ খরার এমনই ছবি। সোমবার, ১৭ আগস্ট প্রকাশিত সর্বশেষ কৃষি পরিস্থিতি সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইউরোপে জুড়ে ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার খবর। ইউরোপের চাষিরা বলছেন, তাদের সামনে এখন আর শুধু একটি খারাপ মৌসুম নয়, এ এক ‘নজিরবিহীন সংকট’। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে সবজি, শস্য, দুধ, ডিম এবং আঙুর উৎপাদনে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির একটি ফ্রান্সে। ব্রিটানির ১ হাজার ৩০০-র বেশি সবজি উৎপাদককে প্রতিনিধিত্ব করা ‘প্রিন্স দ্য ব্রতান’ বলছে, উৎপাদন ও মান দুই দিক থেকেই পরিস্থিতি ‘ঐতিহাসিক সংকটের’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগের বছরের তুলনায় জুকিনির ফলন কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ, লেটুস ৩৫ শতাংশ, মটরশুঁটি ৪০ শতাংশ এবং ব্রকলি ৬০ শতাংশ। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা আর্টিচোকে, কোনো কোনো এলাকায় ক্ষতি ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত।

ফরাসি প্রক্রিয়াজাত সবজি উৎপাদকদের সংগঠনের এরিক লেগ্রাস বলেছেন, অন্য বছর কোনো একটি অঞ্চল খারাপ করলে আরেকটি অঞ্চল সেই ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে দেয়। কিন্তু এ বছর সেই সুযোগও নেই, দেশের প্রায় সব প্রধান উৎপাদন অঞ্চল একই সময়ে তাপ ও পানির সংকটে পড়েছে। দিনের পর দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে, বহু জায়গায় পৌঁছেছে ৩৫ ডিগ্রি বা তারও ওপরে। তার সঙ্গে প্রায় বৃষ্টিহীন আকাশ ও গরম বাতাস মিলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থামিয়ে দিয়েছে।

শুধু সবজি নয়, ফ্রান্সের শস্যক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা। ইউরোপের বৃহত্তম শস্য উৎপাদক দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ বছরের ভুট্টা উৎপাদন ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে প্রায় ৯০ লাখ টনে নামতে পারে। এ পরিমাণ উৎপাদন শেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৮০ সালে। কিছু জমিতে কৃষকেরা ভুট্টার বদলে সূর্যমুখী চাষ করায় উৎপাদন কমেছে ঠিকই, তবে মন্ত্রণালয় বলছে, তাপপ্রবাহের সময় ভুট্টার বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় আক্রান্ত হওয়াও বড় কারণ।

এই ক্ষতি এখন খেত পেরিয়ে গোয়ালেও পৌঁছেছে। সাধারণত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা উঠলেই দুগ্ধবতী গরু তাপজনিত চাপে পড়ে। ফ্রান্সে অনেক খামারি ইতিমধ্যে দুধ উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সামনে আরও বড় চিন্তা শীতের খাবার। সরকারি কৃষি পরিসংখ্যান সংস্থা আগ্রেস্তের হিসাবে, গবাদিপশুর শীতকালীন খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড়ের উৎপাদন ১৯৮৯-২০১৮ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম।

মুরগির খামারেও একই সংকট। বিশেষ করে জুনের তীব্র গরমে পোলট্রি খামারে মৃত্যুহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফ্রান্সের জাতীয় ডিম প্রচার সংস্থার হিসাবে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ডিম কম উৎপাদিত হচ্ছে। অর্থাৎ তাপপ্রবাহের অভিঘাত শস্য বা সবজির বাজারে আটকে নেই; তা সরাসরি প্রোটিন ও দুগ্ধজাত খাদ্যের সরবরাহেও পৌঁছে গেছে।

আরও দক্ষিণে ইতালির ছবিও স্বস্তির নয়। দেশটির বৃহত্তম কৃষক সংগঠন কোলদিরেত্তির হিসাবে, ইতালির প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষিজমি এখন হালকা থেকে তীব্র কোনো না কোনো মাত্রার খরার কবলে। ভুট্টা, চাল, সয়াবিন, ফল ও সবজির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; দুধ উৎপাদন কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। খরা, দাবানল ও প্রবল ঝড় মিলিয়ে ইতালির কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ ৩০০ কোটি ইউরোর বেশি বলে হিসাব করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি চাপ উত্তর ইতালির পো উপত্যকায়। চারটি অঞ্চলে বিস্তৃত এই এলাকা ইতালির কৃষির প্রাণকেন্দ্র এবং দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ চাল এখানেই উৎপাদিত হয়। ২০২৫ সালে ইতালিতে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছিল। কিন্তু এবার পো নদীর পানির স্তর মারাত্মকভাবে নেমে যাওয়ায় কৃষকেরা এমন পদ্ধতি নিতে বাধ্য হয়েছেন, যা আগে প্রায় অকল্পনীয় ছিল–প্রতি সপ্তাহে নয়, এক সপ্তাহ পরপর জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে, শুধু মৌসুমটি কোনোভাবে বাঁচানোর জন্য।

স্পেনেও শস্যের হিসাব লাল। কাস্তিয়া ই লেওনে গত বছরের তুলনায় শস্য উৎপাদন ৩৫ শতাংশ কম, মাদ্রিদ অঞ্চলে ৪৯ শতাংশ এবং আন্দালুসিয়ায় ২৪ শতাংশ কমেছে। গরম ও খরার ধাক্কা গবাদিপশুতেও পড়েছে৷ ভেড়ার দুধ উৎপাদন প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ছাগলের দুধ ১০ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।

স্পেনের আরেক উদ্বেগ আঙুরে। দেশটির জাতীয় ওয়াইন ফেডারেশন আশঙ্কা করছে, ২০২৬ সালে মদ তৈরির জন্য আঙুর উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমতে পারে। সংগঠনটির পরিচালক হোসে লুইস বেনিতেজ জানিয়েছেন, পরপর তাপপ্রবাহ ও পানির অভাবে আঙুরের আকার ছোট হচ্ছে, ফলে রসও কম মিলবে। জলপাইয়ের ক্ষেত্রে এখনই চূড়ান্ত পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে না। ২০২৪ সালের খরায় বিপর্যয়ের পর গত বছর জলপাই উৎপাদন ঘুরে দাঁড়িয়েছিল এবং এ বছরের শীত-বসন্তে ভালো বৃষ্টি হয়েছিল। তবে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপ সেই আশাও কতটা টিকতে দেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ইউরোপীয় কমিশনের যৌথ গবেষণা কেন্দ্রও জুলাইয়ের শেষ দিকে সতর্ক করেছিল, একের পর এক তাপপ্রবাহ শীতকালীন শস্যের দানা পূর্ণ হওয়ার সময় কমিয়ে দিয়েছে এবং আগেভাগেই ফসল কাটতে বাধ্য করছে। ইইউজুড়ে শীতকালীন ফসলের ফলন পূর্বাভাস ১ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালীন ফসলের মধ্যে ভুট্টা ও সূর্যমুখীর পূর্বাভাস সবচেয়ে বেশি ৬ থেকে ৭ শতাংশ কমেছে।

এর আগেই জুনের তাপপ্রবাহে ইউরোপের শস্যচাষিদের প্রায় ২০০ কোটি ইউরোর আয় হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল ইউরোপীয় শস্য ও তৈলবীজ বাণিজ্য সংগঠন কোকেরাল। তাদের হিসাবে, প্রায় ৯০ লাখ টন শস্য নষ্ট হতে পারে। শুধু ফ্রান্সেই সম্ভাব্য ভুট্টার ক্ষতি প্রায় ৩৪ লাখ টন বলে তখন অনুমান করা হয়েছিল।

সংকট সামলাতে সরকারগুলোও অর্থের থলে খুলছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু কৃষকদের জন্য তাৎক্ষণিক ১৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি ২০২৭ সালের বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সহায়তা ও বিনিয়োগের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু কৃষকদের বক্তব্য, একটি মৌসুমের ক্ষতিপূরণ দিয়ে সমস্যার মূল কারণ সামলানো যাবে না; পানি সংরক্ষণ, সেচ, তাপসহনশীল ফসল এবং কৃষির দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু অভিযোজনের প্রয়োজন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

ইউরোপের মাঠে তাই এ বছর হিসাবটা শুধু কত টন ফসল উঠল, সেই অঙ্কের নয়। একটি খারাপ ভুট্টার মৌসুম মানে গবাদিপশুর খাবারের ঘাটতি; কম ঘাস মানে কম দুধ; আঙুর ছোট হলে কমে ওয়াইন; আর সবজির ফলন অর্ধেক হলে তার চাপ শেষ পর্যন্ত পৌঁছায় বাজারের দাম ও মানুষের খাবারের থালায়।

একসময় কৃষকেরা আকাশের দিকে তাকাতেন বৃষ্টির আশায়। এ বছর ইউরোপের বহু মাঠে সেই অপেক্ষাও যেন বদলে গেছে৷ বৃষ্টি কবে আসবে, তার সঙ্গে নতুন প্রশ্ন জুড়েছে, পরের তাপপ্রবাহটি আসার আগে ফসলটুকু আদৌ ঘরে তোলা যাবে তো?

ইউরোপকৃষিখরাতাপপ্রবাহ
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise