তাপপ্রবাহের মৃত্যুফাঁদে ফ্রান্স, পানিতে নেমে প্রাণ গেল ৪০ জনের

আইফেল টাওয়ারের সামনে ট্রোকাডেরো ফোয়ারায় শরীর ঠান্ডা করছেন অনেকে- রয়টার্স
তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে গত এক সপ্তাহে ফ্রান্সে পানিতে নেমে ডুবে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবারও ইউরোপজুড়ে কোটি কোটি মানুষ চরম গরমের মধ্যে দিন কাটিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি দেখা গেছে ফ্রান্সে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে ডুবে মারা যাওয়া ৪০ জনের বেশিরভাগই তরুণ।
ফ্রান্সের ক্রীড়া ও যুবমন্ত্রী মারিনা ফেরারি সতর্ক করে বলেছেন, তাপপ্রবাহের সময় তদারকি নেই এমন জায়গায় সাঁতার কাটতে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত এই তীব্র গরম অব্যাহত থাকতে পারে। অনেক শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফ্রান্সে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার তুলনামূলক কম। ফলে গরমের প্রভাব পড়েছে স্কুল, গণপরিবহন ও ক্রীড়া আয়োজনেও। প্যারিসে তীব্র গরমের কারণে আইফেল টাওয়ার স্বাভাবিক সময়ের আগেই দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, সামনে আরও রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে। বছরের যেকোনো সময়ের আগের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে কিছু এলাকায়।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের ৫৪টি বিভাগে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা দেশের প্রায় অর্ধেক অঞ্চলজুড়ে কার্যকর।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার জুন মাসের ইতিহাসে ফ্রান্সের সবচেয়ে গরম দিন ছিল। একই সঙ্গে সোমবার রাত ছিল দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ রাত।
ফ্রান্সের পাশাপাশি ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যেও তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত। স্পেনের বিস্তীর্ণ এলাকায় রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন চরম আবহাওয়া আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা বলছে, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আরও নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হতে পারে।




